'গণজাগরণ মঞ্চের প্রবর্তক' দের 'ইসলাম' প্রীতি বাড়ছে দেখে ভালই লাগে। তবে তাদের ইসলাম প্রীতি প্রমান করতে গিয়ে - যেই উদার মানসিকতার দরকার, তা কোনো ভাবেই প্রমান করতে পারছেন না।
আজকে ওনারা হাশিম আমলাকে টেনে নিয়ে এসেছেন। হাশিম আমলার পরিচয় এবং ধর্মের জন্য যে ত্যাগ - তাতে নিশ্চই আমাদেরকে নতুন করে শেখানোর কিছু নেই। কিন্তু এই নব্য 'ইসলাম' প্রিয় মানুষেরা আমাদেরকে নতুন করে হাশিম আমলাকে চেনাতে এসেছেন।
ওনাদের ধারা ভাষ্যর এক জায়গায় লেখা - 'গতকালকের ওয়ান ডে খেলায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান কে পরাস্ত করবার সময় দেশপ্রেমিক হাশিম আমলার ব্যাট যেন হয়ে উঠেছিল তরবারী।' ভাবখানা এমন - যেন 'ইসলামী প্রজাতন্ত্র' আর 'দেশ প্রেমিক' শব্দ ২টি - opponents.
একজনের সাথে আরেকজন ব্যাট না নিয়ে - যেন তরবারি নিয়ে নেমেছে। I am sure Amla is a sportsman!
হাশিম আমলার বিশ্বাসের ভিতরে শুধু দেশ প্রেম আছে? 'ইসলামী প্রজাতন্ত্রের' যেই values, আপনারা বলতে চাচ্ছেন তা নেই? কথা এমন ভাবে প্রকাশ করছেন যেন - 'ইসলামী প্রজাতন্ত্রের' বিরুদ্ধে একজন মুসলিম একজন ইহুদির সাথে কাঁধে কাঁধ রেখে যুদ্ধ করছে ! আচ্ছা - হাশিম আমলাকে যদি তাদের এই লেখার ধরন দেখানো হয় - তখন কি হবে?
এমন উদার মানসিকতার ওনারা - খেলাকেও ছাড়েননা।
ধারাভাষ্য এখানেই শেষ না। অধিনায়ক ডি ভিল্লিয়ের্স এর সাথে আলিন্গন্রত ছবি দেখিয়ে বলছেন ওনারা - দি ভিল্লিয়ার্স একজন ইহুদি। আবার বলছেন 'আমাদের দেশের হিসেবে একজন নাসারা।----- আইকন মুসলিমের আলিঙ্গনে একজন নাসারা - সহযোদ্ধা' (ওনারা জানেন না - নাসারা বলা হয় খৃষ্ঠান ধর্মালম্বীদের; ইহুদিদের বলে -'ইয়াহুদ।' এটাই হচ্ছে ওনাদের ইসলামী এবং আরবী জ্ঞান এর দৌড়।) মানেটা কি? এনারা কি বলতে চাচ্ছেন? নিজেদের অসহিষ্ণু চিন্তাধারার ধরন দেশের আর সব মানুষ লালন করে? এরকম ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশটাকে কি বানাতে চাচ্ছেন তারা? আরে - ইসলামী দলগুলো এদেশকে আফগানিস্তান বানানোর আগে - তারাই তা বানাচ্ছেন। নিজেরা ভালো চিন্তা লালন করতে পারেন না - তাই বলে পুরা দেশের আমজনতাকে তাদের চিন্তার থলের ভেতরে ভরার অধিকার কে দিয়েছে তাদেরকে? ধর্মীয় চিন্তাধারাকে তারা সহ্য করতে পারবেন না, ধর্মীয় সম্প্রীতিকে আঘাত দিয়ে ভেঙ্গে দিতে চাইবেন; আবার একজন ধার্মিক লোকের values কে নিজেদের চিন্তাধারার ধাঁচে ফেলে, সেটার অপব্যাখ্যা করছেন। I am sure Hashim Amla doesn’t have shallow knowledge about Islam like they do.
নব্য 'ইসলাম' প্রেমীদের বলছি -
আপনাদের মনে নেই - এই সেই সাউথ আফ্রিকান ক্রিকেট টীম - যারা ডিন জোন্সকে চাকুরিচ্যুত করাতে বাধ্য করেছিল যখন সে আমলাকে দাড়ির জন্য 'সন্ত্রাসী' বলে মন্তব্য করেছিল? এবং সেই টিমেরই অধিনায়ক এই - ডি ভিল্লিয়ার্স। এটাই হচ্ছে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা। পরস্পরের ধর্মীয় সহিষ্ণুতা। আপনারা যে হারে ইসলামের পক্ষের মানুষদের 'ছাগু', 'রাজাকার', 'ধর্মান্ধ' বলে গালি দেন - আপনারা ডি ভিল্লিয়ার্স এর টিমে স্থান পাবেন না; পাবেন - ডিন জোনস এর টিমে। আর আপনাদেরকে ডি ভিল্লিয়ার্সের সাউথ আফ্রিকান টিম চাকুরিচ্যুত করতে বাধ্য করবে।
আরেকটা কথা মনে রাখবেন - হাশিম আমলা শুধু নিলসেন ম্যান্ডেলার সাউথ আফ্রিকার খেলওয়ার নন। সে আহমেদ দিদাতের সাউথ আফ্রিকারও খেলওয়ার।
এই ২এর সমীকরণ আপনারা বুঝবেন না। বোঝার ক্ষমতা হবার আগে ইসলাম নিয়ে ধান্দাবাজি বাদ দেন।
বুধবার, ২০ মার্চ, ২০১৩
রবিবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
আদিলের দৌড়
৮-৯ বছর আগের কথা। আদিল তখন ক্লাস ৭-এ। সে ছিল গ্রামের সবচাইতে দুষ্টু বাচ্চাগুলোর একজন। কেও তার সাথে গাছ বাইতে সাহস করত না - কারণ সবচেয়ে উঁচু গাছ সে বেয়ে উঠত। সাতারে কেও তাকে হাঁরাতে পারত না। ক্লাসেও ছিল তুখোর। মা'র বকুনি দেবার চান্সটাও থাকতনা - শুধু দৌড় আর দৌড়। ২ পা যেন দিক্বেদিক ছুটেই চলছে। তার দৌড় যেন সবকিছু নিয়ে - একটু বেশি তারাহুরা সবকিছুতে।
সেদিন সে দেখছিল বাসার চালের ঠিক উপরে আম ঝুলছে; মাত্র আম ধরা শুরু হয়েছে। ব্যস - উঠলো সেই ডালে। যে ছেলের কাছে নারিকেল গাছ বেয়ে উঠা ব্যাপার না - সেই ছেলেই ঐদিন পিছলে গেল ছোট একটা ডাল বেয়ে উঠতে গিয়ে। আর ওখানেই শেষ হয়ে গেল তার দৌড় - সেই তড়িত গতির ২পায়ের দৌড়। ব্যাথায় চিত্কার করতে লাগলো। সদরের ডাক্তার বুঝলো আদিলকে সে কোনো উপকার করতে পারবেনা। চঞ্চল সেই আদিলকে নিয়ে আসা হলো ঢাকায়। এক্স, রে, করে দেখা গেল - মেরুদন্ডের নিচের দিকটা একেবারে টুকরো হয়ে গেছে। অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হলো। শুধুমাত্র তাকে বাচানোর জন্য। হুট করে দরকার হলো রক্তের। ভাগ্যের জোরে আমার রক্তের সাথেই মিলে গেল সবকিছু তে। জীবনের প্রথম রক্ত দেয়া - চঞ্চল আদিলের জন্য। ও বেঁচে গেল - কিন্তু চিরতরে সেই হারিয়ে ফেলেছিল তার দুরন্ত পায়ের সব জোর। আল্লাহই জানেন এর মধ্যেও নিশ্চই কোনো উপকার আছে তার জন্য।
তার ছোট্ট ভাইকে সেবার সে বলল – ‘ও আমার ভাইটা , তোর পা ২টা আমাকে দিবি? আমি কথা দিচ্ছি সারা জীবন তোকে আমি কোলে নিয়ে বেড়াব’।
যেই মা অতিষ্ট হয়ে যেত আদিলের চঞ্চলতায় - সে বাকরুদ্ধ।
সি,আর,পি, তে থাকলো কিছুদিন - নিজের উপর নির্ভর করতে শিখল, হাতের কাজ তার বাড়তে লাগলো। গ্রামে ফিরে গেল। কিন্তু সেখানে গিয়ে সে হয়ে গেল - শো পিস। সবাই দেখতে আসল তাকে - কিভাবে সে হাত দিয়ে সব কাজ করছে, আর পা ২টা নিস্তেজ হয়ে আছে। ক্লাসে যেতে গেলে - রাস্তা দিয়ে সবাই তার পিছে যাওয়া শুরু করলো। self-prestigious তার মন আর মানলনা - ক্লাসে যাওয়া বন্ধ করে দিল। বাসায় বসে একটু আধটু পড়ল। আসতে আসতে দিন গড়িয়ে তার সহপাঠীরা ক্লাস ১০ এ উঠলো। মেট্রিক পরীক্ষা দিতে গেল। তার কাছে অঙ্ক আর ইংলিশ পড়তে আসা ছাত্রগুলো খুব ভালো রেজাল্ট করলো। সে বসে রইলো বাসায় তার খাটের উপর।
পরিবারেরই অনেকে চিন্তা করতে লাগলো - কার উপর তার নির্ভর করে থাকতে হবে সারা জীবন? কে তার দায়িত্ব নিবে? তার খরচের ভার কে সামলাবে? উটকো ঝামেলা কে পোহাবে? সামনা সামনি বলতেও অনেকে দীধা বোধ করলোনা। ওই সময় - বেড়াতে যাওয়া হয়েছিল গ্রামে। তখন খুব করে বুঝিয়েছিলাম আমি আর আমাদের এক ভাবী মিলে।
আসতে আসতে তার মনের জোর একটু ফিরতে শুরু করেছে। নিজ থেকে খুঁজে বের করেছে রাজশাহীর এক প্রতিষ্ঠান - যেখানে পক্ষাঘাতগ্রস্থদের নিয়ে একটা স্কুল আছে। এখন সে সেখানে নিজেই থাকছে। আর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে - তার সেই অদম্য চঞ্চলতাকে ফিরিয়ে আনতে।
===============================
আদিল এবার মেট্রিক পরীক্ষা দিচ্ছে - তার সেই ছোট্ট ভাইটার সাথে। টেস্টে গোল্ডেন-এ পেয়েছে।
এই মাত্র ফোন করে জানালো -বাংলা পরীক্ষা দিয়ে এসেছে।
এই ভাইটার জন্য সবার কাছে দো'আ চাচ্ছি। আল্লাহ কার হাতকে কবুল করবেন - একমাত্র তিনি জানেন!
সেদিন সে দেখছিল বাসার চালের ঠিক উপরে আম ঝুলছে; মাত্র আম ধরা শুরু হয়েছে। ব্যস - উঠলো সেই ডালে। যে ছেলের কাছে নারিকেল গাছ বেয়ে উঠা ব্যাপার না - সেই ছেলেই ঐদিন পিছলে গেল ছোট একটা ডাল বেয়ে উঠতে গিয়ে। আর ওখানেই শেষ হয়ে গেল তার দৌড় - সেই তড়িত গতির ২পায়ের দৌড়। ব্যাথায় চিত্কার করতে লাগলো। সদরের ডাক্তার বুঝলো আদিলকে সে কোনো উপকার করতে পারবেনা। চঞ্চল সেই আদিলকে নিয়ে আসা হলো ঢাকায়। এক্স, রে, করে দেখা গেল - মেরুদন্ডের নিচের দিকটা একেবারে টুকরো হয়ে গেছে। অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হলো। শুধুমাত্র তাকে বাচানোর জন্য। হুট করে দরকার হলো রক্তের। ভাগ্যের জোরে আমার রক্তের সাথেই মিলে গেল সবকিছু তে। জীবনের প্রথম রক্ত দেয়া - চঞ্চল আদিলের জন্য। ও বেঁচে গেল - কিন্তু চিরতরে সেই হারিয়ে ফেলেছিল তার দুরন্ত পায়ের সব জোর। আল্লাহই জানেন এর মধ্যেও নিশ্চই কোনো উপকার আছে তার জন্য।
তার ছোট্ট ভাইকে সেবার সে বলল – ‘ও আমার ভাইটা , তোর পা ২টা আমাকে দিবি? আমি কথা দিচ্ছি সারা জীবন তোকে আমি কোলে নিয়ে বেড়াব’।
যেই মা অতিষ্ট হয়ে যেত আদিলের চঞ্চলতায় - সে বাকরুদ্ধ।
সি,আর,পি, তে থাকলো কিছুদিন - নিজের উপর নির্ভর করতে শিখল, হাতের কাজ তার বাড়তে লাগলো। গ্রামে ফিরে গেল। কিন্তু সেখানে গিয়ে সে হয়ে গেল - শো পিস। সবাই দেখতে আসল তাকে - কিভাবে সে হাত দিয়ে সব কাজ করছে, আর পা ২টা নিস্তেজ হয়ে আছে। ক্লাসে যেতে গেলে - রাস্তা দিয়ে সবাই তার পিছে যাওয়া শুরু করলো। self-prestigious তার মন আর মানলনা - ক্লাসে যাওয়া বন্ধ করে দিল। বাসায় বসে একটু আধটু পড়ল। আসতে আসতে দিন গড়িয়ে তার সহপাঠীরা ক্লাস ১০ এ উঠলো। মেট্রিক পরীক্ষা দিতে গেল। তার কাছে অঙ্ক আর ইংলিশ পড়তে আসা ছাত্রগুলো খুব ভালো রেজাল্ট করলো। সে বসে রইলো বাসায় তার খাটের উপর।
পরিবারেরই অনেকে চিন্তা করতে লাগলো - কার উপর তার নির্ভর করে থাকতে হবে সারা জীবন? কে তার দায়িত্ব নিবে? তার খরচের ভার কে সামলাবে? উটকো ঝামেলা কে পোহাবে? সামনা সামনি বলতেও অনেকে দীধা বোধ করলোনা। ওই সময় - বেড়াতে যাওয়া হয়েছিল গ্রামে। তখন খুব করে বুঝিয়েছিলাম আমি আর আমাদের এক ভাবী মিলে।
আসতে আসতে তার মনের জোর একটু ফিরতে শুরু করেছে। নিজ থেকে খুঁজে বের করেছে রাজশাহীর এক প্রতিষ্ঠান - যেখানে পক্ষাঘাতগ্রস্থদের নিয়ে একটা স্কুল আছে। এখন সে সেখানে নিজেই থাকছে। আর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে - তার সেই অদম্য চঞ্চলতাকে ফিরিয়ে আনতে।
===============================
আদিল এবার মেট্রিক পরীক্ষা দিচ্ছে - তার সেই ছোট্ট ভাইটার সাথে। টেস্টে গোল্ডেন-এ পেয়েছে।
এই মাত্র ফোন করে জানালো -বাংলা পরীক্ষা দিয়ে এসেছে।
এই ভাইটার জন্য সবার কাছে দো'আ চাচ্ছি। আল্লাহ কার হাতকে কবুল করবেন - একমাত্র তিনি জানেন!
শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৩
নিভৃতে
গত পরশু মা তার সিনিয়র (বেশ নামকরা একজন ডাক্তার) এক আন্টির সাথে দেখা করতে গিয়েছিল তাঁর ধানমন্ডির ক্লিনিকে। গতকাল ডাইনিং টেবিলে বসে যখন আম্মার দুষ্টমি করছিল - তখন মা সেটা দেখছিল আর বলছিল, 'একজন ৭টা বাচ্চা নষ্ট করেছে'!
'৭টা'?
মা পরে ধীরে ধীরে বলল - ক্লিনিকে যখন দেখা করতে গিয়েছিল, তখন এক মহিলা এসেছে আন্টির কাছে। তার নাকি বাচ্চা হচ্ছেনা। হিস্ট্রি নিয়ে জানা গেল - সেই এর আগে ৩টা বাচ্চাকে মেরে ফেলছে জন্মের আগেই। যেটাকে ডাক্তারি টার্মে বেশ 'ভদ্র' ভাষায় বলে 'এম,আর'।বাচ্চার টাইমিং ঠিক নাই। 'বাচ্চা ভুল সময় দুনিয়াতে আসতে চেয়েছিল' - তাই ৩টাকে ধরে পর পর ফেলে দিল। মা শুনে যখন কিছু বলতে গিয়েছিল, তখন আন্টির এসিস্টেন্ট বললেন, 'আপা, কালকে একজন আসছিল - ৭টা বাচ্চা নষ্ট করসে। এখন আর বাচ্চা হয়্না দেখে চিকিত্সা করতে আসছে'!
৭টা বাচ্চা ফেলে দিয়েছে। এদের কাছ থেকে শুনে মনে হবে - সেই unborn বাচ্চাগুলো হচ্ছে আবর্জনা।' টাইমিং ঠিক নাই। খরচ বাড়াবে। পড়াশোনায়/কাজে উটকো ঝামেলা পাকাবে। So - just get rid of them'. দেখে অবাক লাগে - এরাও নাকি মা?! আর সবকিছু বাদ দেই।সব ধরনের নাড়ির সম্পর্ক বাদ দেই। শুধু একটা fact যদি মাথায় নেই - আর সেটা হচ্ছে, এই বাচ্চাগুলোর তো জান ছিল।মানে এরা তো জীবিত ছিল। এদেরও তো এক পর্যায় গিয়ে খারাপ/ভালো লাগার অনুভূতি থাকে।এরাও তো ব্যথা পায়। হ্যা, জন্মের আগেই। আর দুনিয়াতে এসব নিষ্পাপ বাচ্চার আসার অধিকার যখন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে অন্য এক মানুষ তখন কি পরিমান নির্মম, নৃসংশ এক অবস্থায় সে বিদায় নিচ্ছে 'মা' নামের সেই মানুষের ভিতরে থাকা অবস্থাতেই।
আর এতগুলো বাচ্চা দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেবার পর - এখন নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য বাচ্চা নেবার চেষ্টা চলছে।
মা-র গর্ভের ভিতরটা হচ্ছে একটা লাইফ-সাপোর্ট এর মত। খাবার, শ্বাস-প্রশ্বাস - সবকিছুর জন্য সেই বাচ্চা ওই গর্ভের উপর নির্ভরশীল।সেটা হয় বাচ্চার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল। যখন সেই লাইফ-সাপোর্ট-র সব যোগাযোগ মা নিজ হাতে হুট করে টেনে ছিঁড়ে ফেলে, টেনে-হিচড়ে তার সবধরনের সহায় থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়, যখন এই নির্মম অবস্থায় বাচ্চা আর বাঁচতে পারেনা - তখন আমরা সেটাকে মেনে নেই। কারণ সেটা হচ্ছে গর্ভের সেই পর্দার আড়ালে। কিন্তু একই সমাজে যখন কোনো মা - তার ৩-৪ বছরের ছেলেকে খুন করে, তখন হই-হুল্লোর পড়ে যায় সব জায়গায়। Media তে ফলাও ভাবে বিবরণ আসতে থাকে - কত পাষন্ড সেই মহিলা। আমরা বিলাপ করতে থাকি, মা-দের অবস্থান এবং তাদের মর্যাদা কিভাবে ধুলিস্যাত হচ্ছে। সমাজ কই যাচ্ছে - হায় হায়! কোনো বাপ যখন তার বাচ্চাকে মেরে ফেলে তখন বলা হয় - জানওয়ার ছাড়া সে কিছু না। কিন্তু যখন এক এক জন মা তার ৩-৪টা বাচ্চা ডাস্টবিনে ফেলে দিচ্ছে, এক একটা বাপ চাচ্ছে সেই শিশুকে দূর করতে, আর এসব কোনো দোষ হিসেবে গন্য হচ্ছেনা - তখন সেই সমাজের ভিতর থেকে পঁচে যাচ্ছে, একটা পর্দার আড়ালে।
আল্লাহ নিশ্চই সুবিচারক। এই দুনিয়াতে এসব মার্ডার কেসের আসামীগুলো কোনো বিচারের সম্মুক্ষীন না হলেও - হাশরের ময়দানে হবে। আর তখন সেই নিষ্পাপ বাচ্চাগুলোকে জিজ্ঞেস করা হবে - 'তোমাদের কোন দোষের কারণে মেরে ফেলা হয়েছিল?'
'দারিদ্রের ভয়ে তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না। তাদেরকে এবং তোমাদেরকে আমিই জীবনোপকরণ দিযে থাকি। নিশ্চই তদেরকে হত্যা করা মারাত্মক অপরাধ' (সুরা বাণী ইসরাইল, আয়াত ৩১)
'যখন জীবন্ত প্রোথিত কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে, কি অপরাধে তাকে হত্যা করা হলো' - (সুরা তাকবির, আয়াত ৮-৯)
'৭টা'?
মা পরে ধীরে ধীরে বলল - ক্লিনিকে যখন দেখা করতে গিয়েছিল, তখন এক মহিলা এসেছে আন্টির কাছে। তার নাকি বাচ্চা হচ্ছেনা। হিস্ট্রি নিয়ে জানা গেল - সেই এর আগে ৩টা বাচ্চাকে মেরে ফেলছে জন্মের আগেই। যেটাকে ডাক্তারি টার্মে বেশ 'ভদ্র' ভাষায় বলে 'এম,আর'।বাচ্চার টাইমিং ঠিক নাই। 'বাচ্চা ভুল সময় দুনিয়াতে আসতে চেয়েছিল' - তাই ৩টাকে ধরে পর পর ফেলে দিল। মা শুনে যখন কিছু বলতে গিয়েছিল, তখন আন্টির এসিস্টেন্ট বললেন, 'আপা, কালকে একজন আসছিল - ৭টা বাচ্চা নষ্ট করসে। এখন আর বাচ্চা হয়্না দেখে চিকিত্সা করতে আসছে'!
৭টা বাচ্চা ফেলে দিয়েছে। এদের কাছ থেকে শুনে মনে হবে - সেই unborn বাচ্চাগুলো হচ্ছে আবর্জনা।' টাইমিং ঠিক নাই। খরচ বাড়াবে। পড়াশোনায়/কাজে উটকো ঝামেলা পাকাবে। So - just get rid of them'. দেখে অবাক লাগে - এরাও নাকি মা?! আর সবকিছু বাদ দেই।সব ধরনের নাড়ির সম্পর্ক বাদ দেই। শুধু একটা fact যদি মাথায় নেই - আর সেটা হচ্ছে, এই বাচ্চাগুলোর তো জান ছিল।মানে এরা তো জীবিত ছিল। এদেরও তো এক পর্যায় গিয়ে খারাপ/ভালো লাগার অনুভূতি থাকে।এরাও তো ব্যথা পায়। হ্যা, জন্মের আগেই। আর দুনিয়াতে এসব নিষ্পাপ বাচ্চার আসার অধিকার যখন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে অন্য এক মানুষ তখন কি পরিমান নির্মম, নৃসংশ এক অবস্থায় সে বিদায় নিচ্ছে 'মা' নামের সেই মানুষের ভিতরে থাকা অবস্থাতেই।
আর এতগুলো বাচ্চা দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেবার পর - এখন নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য বাচ্চা নেবার চেষ্টা চলছে।
মা-র গর্ভের ভিতরটা হচ্ছে একটা লাইফ-সাপোর্ট এর মত। খাবার, শ্বাস-প্রশ্বাস - সবকিছুর জন্য সেই বাচ্চা ওই গর্ভের উপর নির্ভরশীল।সেটা হয় বাচ্চার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল। যখন সেই লাইফ-সাপোর্ট-র সব যোগাযোগ মা নিজ হাতে হুট করে টেনে ছিঁড়ে ফেলে, টেনে-হিচড়ে তার সবধরনের সহায় থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়, যখন এই নির্মম অবস্থায় বাচ্চা আর বাঁচতে পারেনা - তখন আমরা সেটাকে মেনে নেই। কারণ সেটা হচ্ছে গর্ভের সেই পর্দার আড়ালে। কিন্তু একই সমাজে যখন কোনো মা - তার ৩-৪ বছরের ছেলেকে খুন করে, তখন হই-হুল্লোর পড়ে যায় সব জায়গায়। Media তে ফলাও ভাবে বিবরণ আসতে থাকে - কত পাষন্ড সেই মহিলা। আমরা বিলাপ করতে থাকি, মা-দের অবস্থান এবং তাদের মর্যাদা কিভাবে ধুলিস্যাত হচ্ছে। সমাজ কই যাচ্ছে - হায় হায়! কোনো বাপ যখন তার বাচ্চাকে মেরে ফেলে তখন বলা হয় - জানওয়ার ছাড়া সে কিছু না। কিন্তু যখন এক এক জন মা তার ৩-৪টা বাচ্চা ডাস্টবিনে ফেলে দিচ্ছে, এক একটা বাপ চাচ্ছে সেই শিশুকে দূর করতে, আর এসব কোনো দোষ হিসেবে গন্য হচ্ছেনা - তখন সেই সমাজের ভিতর থেকে পঁচে যাচ্ছে, একটা পর্দার আড়ালে।
আল্লাহ নিশ্চই সুবিচারক। এই দুনিয়াতে এসব মার্ডার কেসের আসামীগুলো কোনো বিচারের সম্মুক্ষীন না হলেও - হাশরের ময়দানে হবে। আর তখন সেই নিষ্পাপ বাচ্চাগুলোকে জিজ্ঞেস করা হবে - 'তোমাদের কোন দোষের কারণে মেরে ফেলা হয়েছিল?'
'দারিদ্রের ভয়ে তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না। তাদেরকে এবং তোমাদেরকে আমিই জীবনোপকরণ দিযে থাকি। নিশ্চই তদেরকে হত্যা করা মারাত্মক অপরাধ' (সুরা বাণী ইসরাইল, আয়াত ৩১)
'যখন জীবন্ত প্রোথিত কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে, কি অপরাধে তাকে হত্যা করা হলো' - (সুরা তাকবির, আয়াত ৮-৯)
মঙ্গলবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৩
কিছু ছোট প্রশ্ন (জাফর ইকবাল স্যার এর কাছে):
১। আমরা অনেকেই জানি ও বিশ্বাস করি আমাদের দেশের অনেক তরুণ অনেক শক্ত বিশ্বাস আর ধারণা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এবং সেই শক্ত বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটছে - তাদের প্রতিবাদী কন্ঠে আর তাদের অদম্য স্পৃহায়। বিশ্বাসে দুর্বলতা বা আবছা হবার কারণ কি কম বয়স? বিজ্ঞানের কোন theory এটাকে support করে? একটাই ফ্যাক্টর থাকতে পারে - সেটা হচ্ছে অভিজ্ঞতা। আর এই globalization, তথ্য প্রযুক্তি, আর ফাস্ট-ট্র্যাক জীবনধারার যুগে বোধ করি অভিজ্ঞতার সাথে বয়সের সম্পর্ক দিন দিন কমে যাচ্ছে। সুতরাং আপনার নিজের বয়সের অভিজ্ঞতাকে অন্য তরুণদের উপর short-circuit করাটার পেছনে বয়সের উদ্ধৃতি দেয়াটা কতখানি সময়োপযোগী?
২। বৈচিত্রের সৈন্দর্য (বা the beauty in diversity) - খুবই প্রাসঙ্গিক একটা বিষয়। কিন্তু বিশ্বাসে বৈচিত্র থাকাটার অর্থ কি 'আমার বিশ্বাসটাকে সত্য মনে করে অন্যের বিশ্বাসকে সম্মান দেখানো' নয়? নিজের বিশ্বাসটা ঠিক - এই আত্মবিশ্বাসটুকু একটা তরুণ বা তরুনীর থাকতেই পারে। আমার পাশের মানুষটির ধারণা আমার বিশ্বাসে হয়ত সঠিক নয়। কিন্তু তাকে তার জায়গাতে থেকে তার বিশ্বাসে অটল থাকাটাকে সম্মান দেখানো - সেটাই আমার কর্ত্বব্য। এটাই তো সৈন্দর্য। A combination of self-confidence and mutual respect.
আপনার প্রশ্ন দেখে মনে হচ্ছে ধর্মীয় ব্যাপারে কোনো তরুণ আত্মবিশ্বাসী - এটাই আপনার কাছে একটা আবছা জিনিস। এবং এই আবছা জিনিস থেকে বের হয়ে আসার জন্য আপনি তরুণদের short-circuit করাতে চাচ্ছেন। আমার কাছে আপনার এই ধারনাটা খুবই অসম্মানজনক মনে হয়েছে। বৈচিত্রের সংগাটা কি এটাই হবে?
৩। ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা - এটা সব ধর্মের মানুষের মধ্যে একটু আধটু বিরাজ করে। কোনো ধর্মে বিরাজ করেনা। যাকগে। আপনি বারবার অন্য ধর্মের লোকদের উপর অত্যাচারের প্রসঙ্গ নিয়ে আসেন। একটাবার মুসলিমদের উপর অত্যাচারের প্রসঙ্গ এনেছেন কি? না এনে থাকলে - কেন? আপনার sense of diversity কি মুসলিমদেরকে বাদ দিয়ে গঠন হয়েছে? আপনি যদি নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ দিয়ে দেখেন - তাহলে আপনার লিখায় অত্যাচারের বিষয়টা statistically correlated হওয়াটা যৌক্তিক ছিল। আজকের বিশ্বে মুসলিমদের মত অত্যাচারিত গোষ্টি সেক্ষেত্রে আর কেও নেই। কিন্তু আপনার লেখা দেখে মনে হবে - মুলসিম? তাও আবার অত্যাচারিত? সত্যি - short circuit!
মুসলিম অত্যাচারিতদের প্রতি আপনার এই অসহিষ্ণুতা কোন পর্যায় নিয়ে যেতে চাচ্ছেন? আমাদের দেশেই যখন নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসে আত্মবিশ্বাসী কিছু মুসলিম তরুনকে আপনি টিটকারী দিয়ে লেখা ছাপান তখন - আপনার 'বৈচিত্রের সৈন্দর্য' কোথায়? যখন আপনার প্রতিবাদী কন্ঠ শুধুমাত্র আপনার পছন্দনীয় কিছু বিষয়ে সোচ্চার হয়ে উঠে - তখন আপনার এত বয়স হবার পরও চিন্তাধারা বা ধারণা কতখানি স্পষ্ট হয়েছে?
৪। রামুর ব্যাপারে আপনি বলেছেন এদেশের ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদ আপনি দেখেননি। শুধুমাত্র ফেইসবুকএ 'লাইক' দেয়া দেখেছেন। আপনার এই ভ্রান্ত ধারণা লালন করার কারণ কি? কারণ কি এটাই কি যে আপনি শুধু ফেইসবুক-এর জগতে বসবাস করেন? রামুতে reconstruction এর কাজে কত তরুণ স্বেচ্ছাকর্মী হিসেবে যোগ করেছে - তা কি আপনার জানা নেই? তরুনদের শুধু চিন্তাধারা আপনার কাছে আবছা লাগছে না - আপনার অজানা তাদের কাজগুলোও আপনার কাছে আবছা লাগছে। নাকি? ঠিক তেমনি তাদের ধর্মীয় আত্মবিশ্বাস আপনার frequency তে না ধরা পড়ায় - সেটাও আপনার কাছে আবছা লাগার কারণ হতে পারে কি?
৫। আয়নাতে দেখছেন - আপনার চুল, গোফ সব পেঁকে সাদা হয়ে যাচ্ছে। আপনি নিজেকে বয়স্ক মনে করছেন না। কারণ 'you feel young at heart.' আপনার নিজেকে বয়স্ক মনে হয়না। আপনি দয়া করে আবার একটু আয়নার সামনে দাড়াবেন কি? চুল, গোফ - শুধু সাদা হচ্ছেনা। আপনি দেখবেন আপনার চামড়াও কুকড়িয়ে যাচ্ছে। There are visible wrinkles on your face. আপনার cellular senescence হচ্ছে। আপনার বয়স বেড়ে আপনি একটা সময়ের দিকে ধাবিত হচ্ছেন। সেই সত্য, সেই সময়টাকে - আজ পর্যন্ত কোনো নাস্তিকও মিথ্যা প্রমান করতে পারেনি। আপনি তো নিজেকে নাস্তিক ঘোষণা দেননি। তাই এই সত্যটাকে অনুধাবন করাটা আপনার কাছে আরো সহজ হবে। সে সত্যটা হচ্ছে মৃত্যু।
আমার শেষ প্রশ্ন - এই মৃত্যুকে আপনি কিভাবে দেখেন?
[Aging - রেফারেন্স এর জন্য Muhammad ibn Yusuf al-Haraw এর Ainul Hayat বইটি পরে দেখতে পারেন। আপনি হয়তবা ধারণা করবেন - মুসলিমদের ইসলামিক রেফারেন্স আপনার দরকার নেই। কিন্তু বিশ্বাস করুন - এটাই হচ্ছে Aging Process নিয়ে বিশ্বের প্রথম নিয়মনিষ্ঠ বই। wikipedia-র মতে 'The book discusses behavioral and lifestyle factors putatively influencing ageing including diet, environment and housing conditions. Also discussed are drugs that may increase and decrease ageing rates.' বইটি আপনার পছন্দ হতে পারে।]
২। বৈচিত্রের সৈন্দর্য (বা the beauty in diversity) - খুবই প্রাসঙ্গিক একটা বিষয়। কিন্তু বিশ্বাসে বৈচিত্র থাকাটার অর্থ কি 'আমার বিশ্বাসটাকে সত্য মনে করে অন্যের বিশ্বাসকে সম্মান দেখানো' নয়? নিজের বিশ্বাসটা ঠিক - এই আত্মবিশ্বাসটুকু একটা তরুণ বা তরুনীর থাকতেই পারে। আমার পাশের মানুষটির ধারণা আমার বিশ্বাসে হয়ত সঠিক নয়। কিন্তু তাকে তার জায়গাতে থেকে তার বিশ্বাসে অটল থাকাটাকে সম্মান দেখানো - সেটাই আমার কর্ত্বব্য। এটাই তো সৈন্দর্য। A combination of self-confidence and mutual respect.
আপনার প্রশ্ন দেখে মনে হচ্ছে ধর্মীয় ব্যাপারে কোনো তরুণ আত্মবিশ্বাসী - এটাই আপনার কাছে একটা আবছা জিনিস। এবং এই আবছা জিনিস থেকে বের হয়ে আসার জন্য আপনি তরুণদের short-circuit করাতে চাচ্ছেন। আমার কাছে আপনার এই ধারনাটা খুবই অসম্মানজনক মনে হয়েছে। বৈচিত্রের সংগাটা কি এটাই হবে?
৩। ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা - এটা সব ধর্মের মানুষের মধ্যে একটু আধটু বিরাজ করে। কোনো ধর্মে বিরাজ করেনা। যাকগে। আপনি বারবার অন্য ধর্মের লোকদের উপর অত্যাচারের প্রসঙ্গ নিয়ে আসেন। একটাবার মুসলিমদের উপর অত্যাচারের প্রসঙ্গ এনেছেন কি? না এনে থাকলে - কেন? আপনার sense of diversity কি মুসলিমদেরকে বাদ দিয়ে গঠন হয়েছে? আপনি যদি নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ দিয়ে দেখেন - তাহলে আপনার লিখায় অত্যাচারের বিষয়টা statistically correlated হওয়াটা যৌক্তিক ছিল। আজকের বিশ্বে মুসলিমদের মত অত্যাচারিত গোষ্টি সেক্ষেত্রে আর কেও নেই। কিন্তু আপনার লেখা দেখে মনে হবে - মুলসিম? তাও আবার অত্যাচারিত? সত্যি - short circuit!
মুসলিম অত্যাচারিতদের প্রতি আপনার এই অসহিষ্ণুতা কোন পর্যায় নিয়ে যেতে চাচ্ছেন? আমাদের দেশেই যখন নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসে আত্মবিশ্বাসী কিছু মুসলিম তরুনকে আপনি টিটকারী দিয়ে লেখা ছাপান তখন - আপনার 'বৈচিত্রের সৈন্দর্য' কোথায়? যখন আপনার প্রতিবাদী কন্ঠ শুধুমাত্র আপনার পছন্দনীয় কিছু বিষয়ে সোচ্চার হয়ে উঠে - তখন আপনার এত বয়স হবার পরও চিন্তাধারা বা ধারণা কতখানি স্পষ্ট হয়েছে?
৪। রামুর ব্যাপারে আপনি বলেছেন এদেশের ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদ আপনি দেখেননি। শুধুমাত্র ফেইসবুকএ 'লাইক' দেয়া দেখেছেন। আপনার এই ভ্রান্ত ধারণা লালন করার কারণ কি? কারণ কি এটাই কি যে আপনি শুধু ফেইসবুক-এর জগতে বসবাস করেন? রামুতে reconstruction এর কাজে কত তরুণ স্বেচ্ছাকর্মী হিসেবে যোগ করেছে - তা কি আপনার জানা নেই? তরুনদের শুধু চিন্তাধারা আপনার কাছে আবছা লাগছে না - আপনার অজানা তাদের কাজগুলোও আপনার কাছে আবছা লাগছে। নাকি? ঠিক তেমনি তাদের ধর্মীয় আত্মবিশ্বাস আপনার frequency তে না ধরা পড়ায় - সেটাও আপনার কাছে আবছা লাগার কারণ হতে পারে কি?
৫। আয়নাতে দেখছেন - আপনার চুল, গোফ সব পেঁকে সাদা হয়ে যাচ্ছে। আপনি নিজেকে বয়স্ক মনে করছেন না। কারণ 'you feel young at heart.' আপনার নিজেকে বয়স্ক মনে হয়না। আপনি দয়া করে আবার একটু আয়নার সামনে দাড়াবেন কি? চুল, গোফ - শুধু সাদা হচ্ছেনা। আপনি দেখবেন আপনার চামড়াও কুকড়িয়ে যাচ্ছে। There are visible wrinkles on your face. আপনার cellular senescence হচ্ছে। আপনার বয়স বেড়ে আপনি একটা সময়ের দিকে ধাবিত হচ্ছেন। সেই সত্য, সেই সময়টাকে - আজ পর্যন্ত কোনো নাস্তিকও মিথ্যা প্রমান করতে পারেনি। আপনি তো নিজেকে নাস্তিক ঘোষণা দেননি। তাই এই সত্যটাকে অনুধাবন করাটা আপনার কাছে আরো সহজ হবে। সে সত্যটা হচ্ছে মৃত্যু।
আমার শেষ প্রশ্ন - এই মৃত্যুকে আপনি কিভাবে দেখেন?
[Aging - রেফারেন্স এর জন্য Muhammad ibn Yusuf al-Haraw এর Ainul Hayat বইটি পরে দেখতে পারেন। আপনি হয়তবা ধারণা করবেন - মুসলিমদের ইসলামিক রেফারেন্স আপনার দরকার নেই। কিন্তু বিশ্বাস করুন - এটাই হচ্ছে Aging Process নিয়ে বিশ্বের প্রথম নিয়মনিষ্ঠ বই। wikipedia-র মতে 'The book discusses behavioral and lifestyle factors putatively influencing ageing including diet, environment and housing conditions. Also discussed are drugs that may increase and decrease ageing rates.' বইটি আপনার পছন্দ হতে পারে।]
রবিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১২
স্বাধীনতার অর্থ এখন এদেশে ....
"স্বাধীনতার স্বপক্ষের" শক্তি হতে হলে অমানুষ হতে হবে, সৃষ্টির নিকৃষ্টতম জীব হতে হবে। যুবক কুঁপিয়ে আর বৃদ্ধ পিটিয়ে মেরে ফেলে আনন্দ মিছিল করা -এটাই যখন বাস্তব নিদর্শন 'স্বাধীনতাকামীদের' - তাহলে আমাদের জ্ঞানহীনতা মনে হয় একটা গজব! আল্লাহর গজব!
স্বাধীনতার অর্থ হয়ত আমরা সবাই বুঝিনা; কিন্তু সত্য ও মানবতা - এই গুলোতো মৌলিক। আফসোস - এই মৌলিক বিষয় খর্ব করেই স্বাধীনতার তথা বিজয়ের মাস উদযাপন করতে চলেছি।
ছি! ছি!
We are YET to be humans. Independence comes later!
----------------------------
In the name of Allah, the Beneficent, the Most Merciful
95:4 We have certainly created man in the best of stature;
95:5 Then We return him to the lowest of the low,
95:6 Except for those who believe and do righteous deeds, for they will have a reward uninterrupted.
[Surah At-Tin]
স্বাধীনতার অর্থ হয়ত আমরা সবাই বুঝিনা; কিন্তু সত্য ও মানবতা - এই গুলোতো মৌলিক। আফসোস - এই মৌলিক বিষয় খর্ব করেই স্বাধীনতার তথা বিজয়ের মাস উদযাপন করতে চলেছি।
ছি! ছি!
We are YET to be humans. Independence comes later!
----------------------------
In the name of Allah, the Beneficent, the Most Merciful
95:4 We have certainly created man in the best of stature;
95:5 Then We return him to the lowest of the low,
95:6 Except for those who believe and do righteous deeds, for they will have a reward uninterrupted.
[Surah At-Tin]
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)