শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৫

বৈশাখী কলঙ্ক আর এরপর


১. ইউনিভার্সিটি এলাকার কলঙ্কজনক অপরাধের দায় যে বা যারা মহিলাদের কাপড়চপরের উপর চাপানোর চেষ্টা চালাচ্ছে কিংবা সেটাকে একটা 'পরিনতি' হিসেবে দেখছে - তাদের মানসিকতা কোন পর্যায়ের বিকৃত তা বোধগম্য না।  অপরাধীদের অপরাধ এত খাটো করে দেখে, তাদের ছুটে যেতে সাহায্য করা ছাড়া আর কিছু হাসিল করছে বলে মনে হয়না।  আল্লাহর আইন যারা জানে তারা বুঝে উত্যক্ত করার নেগেটিভ স্কোর কতখানি আর 'অশালীনতার' নেগেটিভ স্কোর কতখানি। যে অপরাধের শাস্তি সর্বোচ্চ করে দেয়া হয়েছে আল্লাহর আইনে এবং দুনিয়াতেই বাস্তবায়নের কথা বলা আছে, তারা সেই ধরনের অপরাধকে এই দল শুধুমাত্র একটা পরিনতি হিসেবে দেখছে। আর যেসব কাজের বিচারের দায়ভার আল্লাহ নিজের হাতে রেখেছেন - সেই বিচার তারা করছে, তাও এই বিকৃত ধারণক্ষমতা নিয়ে।

২. আরেক সেল্ফ রাইটিয়াস, এলিটিস্ট দল যাদের এক চোখ সবসময় বন্ধ থাকে - এতদিন একই অপরাধীদের দ্বারা 'ওরা' অত্যাচারিত ছিল, কিন্তু ভিকটিম যেহেতু 'ওরা', আর অপরাধীরা যেহেতু 'আমরা আমরাই', তাই কোনো উচ্চ বাচ্য করার প্রয়োজন বোধ করেনাই ।  সেক্ষেত্রে কোনো নারী কারণ ছাড়া আটক হলো, না খুন হলো, না শ্লীলতাহানী হলো, না একেবারে গুম হয়ে গেল - তাতে কি আসে যায়? ভার্চুয়াল জগতে এরাই প্রতিপক্ষর শ্লীলতাহানির দাবী তুলে - আবার এরাই মাঝে মাঝে ঋষি সেজে বসে।  লিটনদের হাত ভাঙ্গে, কিন্তু কলেজ শিক্ষক মিজানরা আর বোনের সম্ভ্রম রক্ষার্থে নাসিররা একই কারণে জীবন দিয়ে দেয়। লিটনরা হয়ে যায় সেলেব্রিটি - কিন্তু মিজান ও নাসিরদের ভুলে যায় সবাই। বাঙালী জাত ভার্চুয়াল জগতে জাগ্রত হয়; শুরু হয়ে যায় সেলেব্রেশন অফ দা এলিটিস্ট।   

৩. এক বিশেষ দল পুরা জিনিসটাই সহজ করে দেয়ার বিশাল দায়িত্ব নিয়ে বলছে "এগুলো আগেও হয়েছে - তখন মিডিয়াতে আসেনাই - এখন আসে"; এই সো-কল্ড শিক্ষিতদের ভাবখানা এমন যে 'এতো পান্তাভাতের  মত সহজ; অপরাধীরা নতুন কিছু তো করেনি - হই হুল্লোর কিসের'?  

৪. রাস্তা ঘাটে কিছু বিলবোর্ড দেখা যাচ্ছে আজকাল। কোনো সেন্সরশিপ নাই - কারো কোনো মাথা ব্যথাও নাই।  নারীদের সম্ভ্রম নন-ফিসিকাল উপায়ে হরণ হয়ে যাচ্ছে দিনে সহস্রবার; তার কোনো ইয়ত্তা নাই।  "৬ মিনিটে চকলেট থেকে ভেনিলা ফ্লেভার" - আইসক্রিমের এই আবেদন হচ্ছে নারীর বিভন্ন শেডের চেহারায়।  আহ - কি সম্মান নারীর! আফটার অল - 'ইটস মাই চয়েস'।  

৫. সমাজের যে এক সোশাল সিস্টেম এর কারণে এককালে অশ্লীল কাজ কিছুটা হলেও কন্ট্রোলে থাকত - সেই সিস্টেম 'উদারপন্থীদের' পছন্দ হয় নাই।  হুজুর জাত আর ছাগু জাতদের সব ধরনের কাজের বিঘ্ন ঘটিয়ে - এবং তার কোনো অল্টারনেটিভ না প্রতিষ্ঠা করে সমাজকে তারা 'উম্মুক্ত' করছে। আর দেশের প্রমানীত সবচেয়ে বড় অপরাধীদের তা দিয়ে - দৈত্য বানিয়ে ফেলছে।  এর শেষ কোথায় - তা আল্লাহ মাবুদই জানেন। কিন্তু উম্মাদনায়ও যে আমরা প্রতিবেশী দেশের অঙ্গরাষ্ট্র হতে সক্ষম তা প্রমান হচ্ছে।

আর এক গান প্রতি বৈশাখেই কানে বাজতে বাধ্য হয় - "বখাটে ছেলেদের ভিড়ে ললনাদের রেহাই নাই"। ফুর্তিতে বাজে কিন্তু। 

রবিবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৪

ক্ষমার প্রতিযোগিতা ...

২০১৪ সালে এসে বিশ্বজুড়ে মিডিয়াগুলো তোলপার হয়ে যাচ্ছে ইরানের মারয়িয়াম হসেন্জাদেহর নিজের ছেলের খুনীকে শুধুমাত্র চর মেরে, ক্ষমা করে ফাঁসির মঞ্চ থেকে নামিয়ে আনার দৃশ্য নিয়ে। 
আর ফেসবুকে সেটা শেয়ার হচ্ছে, মানুষকে চমক লাগিয়ে দিচ্ছে। 

নিজের প্রানের থেকেও প্রিয়, জীবনের সবটুকু দিয়ে বড় করা ছেলের খুনীকে ক্ষমা করে দিতে কতবড় দিলের অধিকারিনী হতে হয় তা মায়েরাই বুঝবে। 

মজার ব্যাপার হচ্ছে এরকম চমক শারিয়াহ বাস্তবায়িত অঞ্চলে প্রথম না আবার শেষও না। 

১৯৯২-৯৩ সালে সৌদির দক্ষিনাঞ্চলে যখন ছিলাম তখন আমাদের শহরের কাছেই এরকম এক খুনী কারাগারে ~১০ বছর ধরে প্রহর গুনছিলো কবে তারই হাতে খুন হওয়া লোকের ছেলে প্রাপ্তবয়স্ক হবে আর তখন সিদ্ধান্ত হবে তার ফাঁসি হবে নাকি না...
ওই বছর যখন ছেলে সিদ্ধান্ত দেবার মত বয়সে পৌঁছলো - ছেলে তার বাবার খুনীকে মাফ করে দিলো। 

আরেক ঘটনা বিবরণ এরকম ছিল যে এক মা তার ছেলের খুনীকে এই শর্তে ক্ষমা করে দিয়েছিল যে সে কোরআনের হাফেজ হয়ে যাবে। 

এখানে কোনভাবেই এক ক্ষমাকারীর অবস্থান অন্যজনের সাথে তুলনীয় না। বরং এক একজন এক এক দিক দিয়ে ভিন্নরকম দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছে। 

এসব উধাহরণ যেসব দেশের নর্ম/কালচার সেই দেশ থেকে ফিরে এসে আমার দেশের আধুনিক সুশীল-সমাজের ধারক আর বাহকদের কাছ থেকে যখন শুনতে হত - 'এত ব্যাক ডেটেড আরবরা - সেই পুরানা আমলেই রয়ে গেছে', তখন মনে মনে ভাবতাম মন-মগজের দিয়ে আমরা নিজেরাই পেঁছনে থেকে অন্যদের দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে হাসি আর সেই অজ্ঞতার জন্য আমাদের লজ্জাবোধও হয়না। 

দশক দশক ধরে চলে আসা সেই চমক লাগানো সভ্যতা আমাদের কাছে নতুন মনে হয়...

শনিবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৪

A Tale of 2 Societies

২০০৭ সালে ক্লাসে ফিনান্সিয়াল ইনষ্টিটিউশন এন্ড মার্কেটস পড়ানোর সময় মহিউদ্দিন (MOA ) স্যার বলছিলেন ঢাকা আর ১০-১৫ বছরের মধ্যে দিল্লী, নিউ ইয়র্ক আর লন্ডনের মত হয়ে যাবে।এর মানে এই না যে - অর্থনৈতিক ভাবে আমরা ওদের কাছে পৌঁছব। দিল্লী আম-ইন্ডিয়ানদের কাছে যা, নিউ ইয়র্ক আম-আমেরিকানদের কাছে যা আর লন্ডন আম-ব্রিটিশদের কাছে যা, ঢাকাও আম-বাংলাদেশীদের কাছে তা হয়ে যাবে। লিভিং-কস্ট বেড়ে এমন পর্যায় চলে যাবে যে শুধুমাত্র সমাজের উচ্চবিত্তরা এই সিটিতে খেয়ে-পড়ে, কোনো আর্থিক সমস্যা ছাড়া ভবিষ্যত গড়তে পারবে। বাকি সব ঢাকার বাহিরে চলে যেতে বাধ্য হবে। 

আজকে সিএনজি তে আসার সময় - সিএনজি ড্রাইভার বলছিল সে ঢাকায় এসেছিল ২০০১ সালে। তখন রুম ভাড়া দিত মাসে ৫০০ টাকা। এখন সেই একই রুমের ভাড়া বেড়ে হয়েছে ৩৭০০ টাকা। তারমানে তার শুধু বাসা ভাড়ায় খরচ বেড়েছে ৬৪০%। 
আয় সেই অনুপাতের ধারে কাছেও নাই। একটা মাত্র বাচ্চা। দেশের জমি-জমা সব বিক্রি করে চলে এসেছে। ফেরত যাবার মত জায়গা নাই। কিন্তু ঢাকায়ও বেশিদিন থাকতে পারবেনা। থাকার সব উপায় বন্ধ। যাবার উপায়ও বন্ধ। একই ধরনের সমস্যায় আছে আমাদের বাসার কাছের মাঝারি ধরনের দোকানের মালিকরা। তারাও দেশের বাড়িতে ফিরে যাবার চিন্তায় আছে। অফিসের থার্ড-পার্টি ক্লীনার তার পরিবারকে পাঠিয়ে দিয়েছে বাড়িতে। 

এটা হচ্ছে একক/ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে এ শহরের মধ্যবিত্ত আর নিম্নবিত্তের জীবন-জীবিকার সমস্যা। 

যদি আমরা একটু সামগ্রিক ভাবে চিন্তা করি। ইন্ডিয়া হোক, আমেরিকা হোক, ব্রিটেন হোক কিংবা মালয়েশিয়া হোক - সব দেশই তাদের অর্থনৈতিক/ব্যবসায়িক/প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলোকে বিভিন্ন শহরে ভাগ করে দিয়েছে। ওই শহরগুলোর চারিপাশে আবার গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের আয়ের উত্স। এক দিকে, এক-দুটা শহরের উপর চাপ কমে গিয়েছে; অন্যদিকে যাদের সাধ্য নেই এসব অতি-খরচ ওয়ালা জায়গায় থাকতে, তারা অন্য জায়গায় গিয়ে নিজেদের জীবন পার করতে পারছে। 

আর আমাদের এ হতভাগা দেশ? ইনফ্রাস্ট্রাকচারেরই নাই খবর - আর অন্য শহর হবে হাব! এক সেতু নির্মানের কোটি কোটি টাকার প্ল্যান দুর্নীতির কারণে লাপাত্তা হয়ে যায়। টেন্ডারবাজিতে আর চাঁদাবাজিতে রিসোর্সের ৫০% এর উপরে নষ্ট হয়ে যায়।সিডর আর আয়লার জন্য আসা অর্থ-সামগ্রী গ্রামের প্রভাবশালী/ক্ষমতাসীন দলের লোকজনের কাছে চলে যায় - যার ফলে ভিকটিমদের এখনো খোলা আকাশের নিচে থাকতে হচ্ছে আর তিনারা ১তলা থেকে ২তলায় উঠছেন; এদেশের গার্ডিয়ানদের অসীম অবদানের মধ্য দিয়ে তৈরী হচ্ছে একটা ভ্যাকুম - যা শক্ত হাতে ফিরিয়ে না আনলে একটা ক্যাটাসট্রফিতে পরিনত হবে খুব শীঘ্রই। আর এর ভিক্টিম হতে যাচ্ছে কোটি কোটি মানুষ। 

এদেশের ক্ষমতাবান আর উচ্চ/উচ্চ-মধ্যবিত্তদেরও একটু এলার্ম দিলে ভালো হত। সব চেতনা অন্তরে নিয়ে, মাথার চিন্তা বের করে - নিজেদের জগতকে যথেষ্ট মনে করে এগিয়ে যাচ্ছে। চলছে - চলবে। কতদিন এভাবে চলবে এটার কোনো চিন্তা থাকেনা। এখন আমরা যারা মনে করছি আমাদের নিজেদের আয়ের অনুপাত ঠিক আছে, তারা আরেকবার একটু চিন্তা করি। কয়দিন পর - কম দামে পাওয়া এসব মজুর, ড্রাইভার, মুদির দোকান আর গাউসিয়া যখন উঠে যেতে বাধ্য হবে, তখন আমরা কয়জন পারব সামাল দিতে? 

আর এরকম অসমতা যদি বাড়তেই থাকে - তাহলে চার্লস ডিকেন্স এর 'আ টেল অফ টু সিটিস' এর আম-জনতার যেই ক্ষোভ/জনরোষ তৈরী হতে টাইম লাগবেনা। যারা রিয়ালিটির সাথে পরিচিত, তারা বুঝবেন - সেই প্রসেস ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে।সংখ্যার দিক দিয়ে উচ্চ/উচ্চ-মধ্য বিত্তরা খুবই কম। And Madame Defarge is getting ready.

বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

2nd Generation

নানী-দাদী-নানা-দাদা... 

মাঝে মাঝে মনে হয় - বাপ মা'দের তুলনায় এদের ভালবাসা কি কোনো অংশে কম থাকে? 

উল্টা বাপ-মা'দের মধ্যে যেই শাসন করার কঠোরতা থাকে - তাদের মধ্যে তাও থাকেনা। বোনাস ভালবাসা। ঠিক যেই কারণগুলার জন্য ছেলেমেয়েদের মাইর লাগাতে ভুলে নাই - আজকাল সেই এক'ই দোষে নাতীকে বকা দেয়াও দোষ হয়ে যায় তাদের চোখে। নাতী কি খেতে ভালবাসে, কি করলে হাসবে, কি করলে কাঁদবে না - হাজার জিনিস বিবেচনা করে এখন তারা দিন পার করছে। নাঁচতে বললেও - তাই করবে। সাদা-কালো হয়ে যাওয়া চুল/দাড়ি নিয়ে তখন নাঁচতে মনে হয় দুনিয়ার সব সুখ... 
রান্না-ঘরে ঢুকে সব তছনছ করে ফেললে - সেটা দেখে দাঁড়িয়ে হাসবে।মনে হবে কমেডি হচ্ছে। সুরা'র কোনো একটা অংশ সামান্য উচ্চারণ করে ফেললে - ফোন দিয়ে এনাউন্স করবে। কোনো মানুষের চোখ লাগলো কিনা - সেজন্য দুয়া পরে ফু দিতে থাকবে। দেশের বাহিরে থাকলে - কান্না-কাটি; দেখতে না পারার বেদনা... 

যেই কোলে আড়াই যুগ আগে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বসে থাকত - সেই কোল আজকে দখল করে ফেলছে পরের জেনেরেশন। 

শুধু একটা জেনেরেশনকে পেলে মানুষ করে তারা ক্ষ্যান্ত দেয়না - পরের জেনেরেশনকেও পালছে।
সেজন্য মনে হয় - যখন সে শিখবে 'রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাঘিরা', তখন ইনশা ল্লাহ বলে দিব ওই দুয়া শুধু বাপ-মা'র জন্য না - ওই বাকি ৪ জনকেও যেন সামিল করে। 
😊

বুধবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৪

১৯৭১ - হীনমন্যতা আর তাকে পুঁজি করে চেতনা ব্যবসা

কিছু মানুষের গাঁধার মত প্রশ্ন/মন্তব্য করা দেখে চোখ কপালে ওঠে...

এদেশ শুধু তোমাদের, না? যুদ্ধ করেছে শুধু তোমাদের বাপ -চাচা- মামারা, না? পাকবাহিনীর হাতে খুন হয়েছেন শুধু তোমাদের আত্মীয় স্বজন, না? দেশপ্রেমিক আর রাজাকার ডিফাইন করতে যখন তোমরা আসছ আমাদের সামনে - তখন কি ভেবে আসো? আমরা কি ভিনদেশী যে আমাদের ইতিহাস তোমাদের কাছ থেকে শিখতে হবে? ব্যাসিক মানবিকতার দিক গুলো আমাদেরকে আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে হবে? দেশপ্রেমের কপিরাইট নিজেদের করে নেওয়া তোমাদের প্যাট্রিয়টিক ডিউটি, না? কে দিয়েছে এই অধিকার? 

শিক্ষার উদ্যেশ্য হলো কোনো একটা জিনিস unlearn করে relearn করা... সেটা সহজে করা যায় একদম শিক্ষা নাই যাদের, তাদেরকে। 

এদেশে যদি ৩০ লক্ষ লোক প্রাণ দিয়ে থাকে - তাহলে দেশের প্রতিটা ঘরে তাদের উত্তরসুরী আছে। তোমাদের চৌদ্দগুষ্টি ছাড়াও বাংলাদেশের বাকি মানুষও যুদ্ধ দেখেছে। Relearn করানোর প্রয়োজন পরেনা। 

এদেশের 'অতি শিক্ষিত' বেশিরভাগ মানুষ ২টি গ্রুপে ভাগ হয়েছে - ১। যারা নিজেদের relearn কে খুব cheap করে দিয়েছে ২। যারা দেশের ইতিহাসকে আর কিছু ক্ষেত্রে নিজেদের অবদানকে প্রতিনিয়ত এক্সপ্লয়েট করে এমন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে যে তা medieval piracy এর থেকেও নিম্ন! 

আর অল্প কিছু লোক আছে তৃতীয় এক গ্রুপে - যারা self-less, self-confident ও patriot. 

সবার ব্যাকগ্রাউন্ডে কিন্তু ৭১এ অবদানের ইতিহাস আছে। 

১নং এ যারা আছে vulnerability দূর করা দরকার। আর ২নং এ যারা আছে, তারা ওই তৃতীয় গ্রুপ থেকে সতর্ক থেকো !

গেরিলা আর ব্যাসটারড-চাইল্ড এর ভিকটিম সেজে অন্যকে ভিলেন সাজাতে গেলে - ট্র্যাপ-এ পড়তে পারো। কারণ ভিকটিম কিন্তু সব ঘরেই আছে!


বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৩

Is this a newspaper or 16pages of editorial?!

১/ গতকাল ডেইলি-ষ্টার এর একটা হেডলাইন ছিল 'IMF praises reform efforts: Bangladesh may get $140.5m credit in Dec'. পুরা রিপোর্ট জুড়ে কত সুন্দর কথা বার্তা। 

৬ প্যারাগ্রাফ পরে একটা মাত্র লাইন - 'The lender thinks Bangladesh’s GDP (gross domestic product) growth would slip below 6 percent this fiscal year'. 

বুঝলাম না - দেশের বেশিরভাগ মানুষ কি ঘাস খায়? কোন খবরের গুরুত্ব বেশি তা বুঝি আমরা জানিনা? একটা দেশের জিডিপি ৬ এর নিচে চলে যাচ্ছে, আর খবরের হেডলাইন হচ্ছে 'IMF praises reform efforts....'. তার উপর আবার '... may get $140.5m credit in Dec' - যা আইএমএফ এর আগে থেকেই দেবার কথা ছিল। 

এসব বিজ্ঞ সংবাদ মাধ্যম নিজেদের মনে করেন বুদ্ধিজীবী আর বাকি সব রামছাগল। 

[Financial Express এর হেডলাইন "IMF projects real GDP growth below 6.0pc; lauds progress in macroeconomic policies"] 

=======================

২/ গতকাল একই পেপার এর আরেক হেডলাইন - 'He never let us read his books - recalls Farooq Maududi' 
ছবিতে দেয়া টুপি পরা সেই ভদ্রলোক। যে বখে যাওয়া, যে বাপ দ্বারা বাসা থেকে ২বার বিতারিত, মা যার বিরুদ্ধে কোর্টে যেতে বাধ্য হয়েছে, আর ভাইবোন্ যার বিরুদ্ধে পাকিস্তান মিডিয়াতে বক্তব্য দিতে বাধ্য হয়েছে - তাকে দিয়ে এনারা বলাচ্ছেন ধর্ম আর রাজনীতির নীতি কি হওয়া উচিত। ঘাদানিক গোষ্ঠী কবে থেকে ধর্মীয় রাজনীতির এক্সপার্ট হলো? 

এনারা হয়তো জানেন না - আবুল আলা মউদুদী কে, বিশ্বে তার পরিচিতি কি রকম আর তার চিন্তাধারার লেভেল কোন জায়গায়। 
প্লেগ্রুপে পড়া অবস্থায় পিএইচডি অধ্যায়নরতদের নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছেন তারা। 

গুগল এর দুনিয়া - সার্চ দিলেই মানুষ জানতে পারে অনেক কিছু।কিন্তু তবুও তারা ভাবে এদেশের বেশিরভাগ মানুষ কিছু জানেনা। আর ঘাদানিক গোষ্ঠির মুখপাত্র এই মুহুর্তে এদেশে তারাই হবে - যারা জনগনকে ভাবে রামছাগল। 

=======================

৩/ আজকে সকাল পর্যন্ত একই পেপার এ হেডলাইন ছিল, 'Explosion rocks ....' 
সকাল যেতে না যেতে সেটা হয়ে গেল 'Over 30 grenades stored there'. নিচে ছোট করে লেখা 'says police'. 

আবার একটা ছবিও দিয়েছে - যেখানে মফস্সল-গ্রামাঞ্চলের ছেলেদের খুবই প্রিয় খেলনা, মার্বেলের, ছবি দেয়া। ক্যাপশন এ দেয়া - সেটাও নাকি বম্ব বানানোর উপকরণ। 

এদেশের মানুষ বাংলাদেশ পুলিশের মুখপাত্র হওয়াটা এই মূহুর্তে একমাত্র তারাই পারবে - যারা সারা দেশের সব মানুষকে রামছাগল ভাবে। 

কিন্তু আমার প্রশ্ন একটাই: এপ্রিল-মে মাসের ধর্মীয় গোষ্ঠির সমাগম/জাগরণ ভুলে যাওয়া - এটা কি রামছাগলের লক্ষণ নাকি গোল্ডফিশের লক্ষণ? 

----------------

Give away everything - the land, the borders, the forests, the water that is flowing, the garments that were flourishing. And now - the image that it was holding. You may buy the foreign minds with that. 

But never ever think you are going to sell the minds of the people of this country. 

Unless of course if you think we are all রামছাগল!

মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৩

বৈচিত্রময় দেশ থেকে ফিরে ...৪

4.

সাদা লুজ শার্ট আর জিন্সের প্যান্ট পরা ছিল মেয়েটি। বয়স ২৪-৩০ এর মধ্যে। চুলগুলো কোনোমতে একটা ঝুটি বেঁধে ছুটছে। একটা পা অচল - তারপরও ক্রাচে ভর করে এক লেকচার হল থেকে অন্য হলে ছুটে যাচ্ছে। দৃশ্যটি দেখে ইচ্ছা হচ্ছিল - আরো কিছুক্ষণ দাড়িয়ে দেখি। সে এক অন্যরকম ফিলিং। এত্তখানি কষ্ট করে - মেয়েটি কনভেনশনে হাজির হয়েছে হয়েছে শুধুমাত্র ইসলাম ধর্ম/এপ্লিকেশনের কথাগুলো শুনতে। 

ইসনা (ISNA - Islamic Society of North America) কনভেনশনে এমন কিছু দেখেছি - যা আমাকে ইসলামের মানবিক গুনাবলীগুলো নিয়ে আবার চিন্তা করতে শিখাচ্ছে। এখনো ওই দিনগুলো নিয়ে চিন্তা করতে থাকলে, এমনকিছু হটাত মনে পরে - যা আবার নতুন করে চিন্তা করতে শেখায়। আর মনে হয় দেশে আমরা যারা ইসলাম মানতে চাই (বা ইসলামের কথা বলি), তাদের আরো কতকিছু শেখার বাকি আছে। 

সামাজিক কিছু ব্যাধি আমাদের দেশের মানুষের ভেতর রয়ে গিয়েছে - জনম কা জনম (জেনেরালি স্পিকিং); সেটা থেকে ইসলামী-ধ্যান ধারণায় বিশ্বাসী এই আমরাও সেটার মূল উত্পাটন করতে পারিনি। ওই ক্রাচে ভর করা মেয়েটিকে আপাত দৃষ্টিতে দেখে আমাদের দেশের বেশিরভাগের একটা জাজমেন্ট আসত। 'জিন্স পরে আসছে মেয়েটা'... 'মাথায় একটু কাপড় দিলেও তো পারত - আল্লাহর নাম নেয়া হচ্ছে '... কিন্তু একারণে কত উত্সুক মানুষ যে দূরে ছিটকে যায় - তার হিসেব নেই।আমরা বেশিরভাগ ভাবিনা - সেই মেয়েটাকে দেখে আল্লাহর কুরআনের ওই আয়াত মনে পড়তে পারত, যেখানে আল্লাহ বলছেন - 'তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও জান্নাতের দিকে ছুটে চল, যার সীমানা হছে আসমান ও জমিন, যা তৈরী হয়েছে মুত্তাকীদের জন্য' (সুরা আল-ইমরান, ১৩৩). হতে পারে ক্রাচে ভর করেই সে এই রেসে অনেকের আগে চলে যেতে পারে।

আরে, তাকওয়ার মাপ কি আল্লাহ আমাদের হাতে দিয়ে দিয়েছেন? [শুধু একটা উদাহরণ নেই - হিজাব করে যেই সওয়াব আয় করছি, তা এক গিবত দিয়ে যে উড়িয়ে দেই - আল্লাহর স্কোরিং এ আমাদের নেট স্কোর কত হয় তখন?] 

ওখানে একই জায়গায় বসে আছে - নিকাবি, হিজাবি, হিজাব-ছাড়া লুজ কাপড় পরা মেয়েরা; আবার টাইট জিন্স পরা মহিলাও। উদ্দেশ্য একই - একটু যদি শিখতে পারি। ওই দেশে যারা ইসলাম প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে, তাদের মেন্টাল ম্যাচিউরিটি অনেক বেশি। সেটা ওখানকার প্রতিটা লেকচারে রিফ্লেক্ট হয়েছে। আগ্রহকে কাজে লাগানোর ব্যাপারে ওস্তাদ। সব শুনে মনে হয়েছে - এদেশে একটা ম্যাস ট্রেনিং করতে হবে আমাদের নিয়ে। টপিক হবে -'হাউ টু এম্পাথায়জ উইথ ইউর পিপল'. 

এই এম্পাথী না থাকলে - ওই মেয়েটি ক্রাচে ভর করে লেকচার শুনতে আসতনা; আমার ঠিক পাশের সিটে বসা - সোনালী চুলের, সুট পরা, নেল পলিশ করা, Prada ব্র্যান্ডের ব্যাগ নিয়ে আসা গ্ল্যামারাস কর্পোরেট ভদ্রমহিলা, সে ইয়াসমীন মোগাহেদের লেকচার শুনে সাদা রুমাল দিয়ে চোখের পানি মুছ্তনা। হুইলচেয়ারে করে বয়স্ক ভদ্রলোক নতুন করে ইসলাম শিখতে আসতনা। আর না বয়স্ক এবং টিনেজার একটি টপিকে মন বসাতে পারত। তাও আবার আমেরিকার মত জায়গাতে।

মুহাম্মদ (স) এর পার্সোনালিটির উধাহরণগুলো কতই না সুন্দর করে উপস্থাপন করছে। 

Living the values - not talking the values.....and so unlike us! 
May He Guide us all....

[contd...]

বৈচিত্রময় দেশ থেকে ফিরে ...৩

3. 

প্লেন যখন ল্যান্ড করতে থাকে - যেকোনো শহর/এলাকার একটা বার্ডস-আই-ভিউ পাওয়া যায়। ১৯৯০ -৯৪ সাল পর্যন্ত ঢাকায় যখন প্লেন ল্যান্ড করত, তখন উপর থেকে অনেক সবুজ দেখা যেত - মাঝে মাঝে পানির প্রবাহ। কিছুদুর পর পর ঘন বসতি। দেখলেই চোখটা জুড়িয়ে যেত। আর ঠিক ২০ বছরের মধ্যে সেই দৃশ্য পুরা পাল্টে গিয়েছে; এখন ল্যান্ড করার সময় মনে হয় - একগুচ্ছ কংক্রিট নিয়ে কেও মুড়ির টিনের ভেতর ঝাকুনি দিয়ে ছুড়ে ফেলেছে। না আছে সবুজ, না কোনো নির্দিষ্ট প্যাটার্ন আঁকা যায়। 

জে, এফ, কে এয়ারপোর্ট এ ল্যান্ড করার আগে উপর থেকে দেখে মনে হয় কিছু জ্যামিতিক-আকার ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। কেমন যেন গোছালো জ্যামাতিক সমষ্ঠি - তার মাঝে মাঝে সবুজ রেখা। মনে হচ্ছে এক অদৃশ্য ফ্রেম শহরের প্রতিটা ভাগকে আলাদা করে সিকুএন্স করে রেখেছে। যেমন ভিউ তেমন বাস্তব চিত্র। শহরের এক ল্যাম্প-পোস্ট থেকে শুরু করে ব্রিজ পর্যন্ত - সব একদম প্ল্যান্ড। কয়টা বাড়ি, কোথায় পার্ক, কোথায় অফিস, কয়টা কারখানা - সব লং টার্ম চিন্তা করে প্ল্যান হয়েছিল। অনেকে হয়ত ভাববে - উন্নত দেশ আর উন্নয়নশীল দেশের ভেতর পার্থক্য থাকবেই। থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ওই শহরের প্ল্যানতো আর এখন হয়নি। শত বছরের কাঠামো এখনো দাড়িয়ে আছে ওখানে। আর ওটাকে ঘিরেই তৈরী হয়েছে নতুনগুলো। 
সো - ইটস আ ম্যাটার অফ মায়্যান্ডসেট। 

তাই অলৌকিকভাবে আজ থেকে যদি এদেশের নেতা/নেত্রীরা সেরকম সুদূরপ্রসারী চিন্তা করেন - কয় বছর পর সেরকম জ্যামাতিক আকৃতির ভিউ দেখা যাবে ল্যান্ডিং এর সময় - আল্লাহ মালুম।

কয় বছর আগে - বুএটের আরবান প্ল্যানিং নিয়ে পড়াশোনা করা একজন বলছিল, ওই প্রতিষ্ঠানের অনেক এক্সপার্ট অনেক কাজ করেছেন ঢাকা প্ল্যানিং এর উপর। লিখিত আকারে পরামর্শও দিয়েছেন এই দেশের উপর-ওয়ালাদের। আজ পর্যন্ত কাজে দেয়নাই। এর ফল হচ্ছে - ঢাকা এমন পর্যায় চলে যাচ্ছে যে একটা নিরাপদ, বাসযোগ্য শহর করতে পুরাটা মুছে আবার গড়তে হবে। জ্যামাতিক আকৃতিতো অনেক পরে। আর্থকোএক-প্রণ পাতালের উপর এই নাজুক প্ল্যানিং। দেশপ্রেমিক ভর্তি এক দেশ। 

আমেরিকাতে ঢোল বাজিয়ে কেও কাউকে বলছেনা - যে সে দেশপ্রেমিক। সমষ্ঠিগত ভাবে দেশের জন্য কাজ হচ্ছে প্রতিটা জিনিসের অধিকারের উপর নজর দিয়ে (জেনেরালি স্পীকিং); হতে পারে সেটা আইন প্রয়োগের মাধ্যমে, কিন্তু মজ্জাগত হয়ে গেছে অভ্যাস। একটা শহর কিভাবে গঠন হবে - তা নিয়ে চিন্তা হয়েছে একশত বছর আগে। এই দেশপ্রেম হয়তো তাদেরকে অনেকটা সেল্ফ-সেন্ট্রিক করে ফেলছে (যা নিজেদের দেশের জন্য ভালো দেখাবে তাই করতে রাজি তারা); কিন্তু ফলাফল তারা ভোগও করে যাচ্ছে। 

তাই আজকে দেশে যখন খুঁজে বেড়াচ্ছি বাচ্চার খেলার জন্য একটা মাঠ, আর দূষণমুক্ত বাতাস - ওই দেশের বাচ্চাগুলার এটা নিয়ে চিন্তা করতে হবে, তা ভাবতেই পারেনা। আর এই প্রজন্মকে দেশের ভবিষ্যতের সম্পদ হিসেবে দেখলে - আমাদের কোয়ালিটি কথায় থাকবে? 

সেই চিন্তা আমেরিকানরা আরো ১০০+ বছর আগে করে গিয়েছে। আর আমরা করছি পোস্টারিং। 

[Contd...]

বৈচিত্রময় দেশ থেকে ফিরে ...২

2. 

নিউ ইয়র্ক এর কিছু জায়গা আছে - যা বিভিন্ন কমিউনিটি দিয়ে অধ্যুষিত। 

জ্যাক্সন হাইটস এ গেলে বোঝার উপায় নাই, এটা আমেরিকার একটি অংশ। বাংলা অক্ষরে দোকানের নাম থেকে শুরু করে - দরজার উপর ভোটাভোটির পোস্টার; এমনকি জুমা'র খুতবা দিচ্ছে বাংলায়! দোকানে পাওয়া যাচ্ছে সাতকরা আর জাম্বুরা। 

চার্চ এভেনিউতে চায়না টাউন। সবকিছু চাইনিজ। গ্রসারি সপে পাওয়া যায় কচ্ছপ আর স্কুইড। অবশ্য চায়না টাউন একটা ইউনিভার্সাল কনসেপ্ট। সব দেশেই থাকে। ব্রুকলিন এ 78th street - আরব স্ট্রিট। ওখানে গেলে রাস্তা ঘাটে আরবী ভাষায় কনভার্সেশন শোনা যাচ্ছে। কাউকে দেখেই বোঝা যায় আরব, আর কেও পুরাই পশ্চিমা বেশে। দোকানে বাকলাভা আর পনিরের বাহার, আতর, বোরখা...

আরব স্ট্রিটের এক দোকানে আমি আর আব্বা (শশুর-আব্বা) গিয়েছিলাম। দোকানদার ২ জনই মহিলা। ২জনই কালো বোরখা পড়া। একজনের চেহারা নিকাব দিয়ে ঢাকা। যেই জিনিসটা আমরা নিব - নিকাবী ভদ্রমহিলা সেটার দাম ৫ ডলার কম বলল। হিসাবে ভুলের কথা তুললে, সে বলল, 'That's because you wear the niqab'. মনটা অজান্তেই এত ভালো হয়ে গেল - বলার মত না। মনে হলো এইত আমরা একই গ্যাং এর ! এখানে শেষ না - যখন চেঞ্জ ফেরত দিল - ১০ ডলার বেশি ফেরত দিল। বলল, 'This is for you, sweetheart'!! 

কি বলব বুঝে পেলাম না - ধন্যবাদ দেয়া ছাড়া। জিগ্যেস করলো - 'Is that your father?' আমি বললাম, 'Father-in-law'. আব্বা তখন আবার বললেন, 'I have only one son'. মহিলা সাথে সাথে উত্তর দিল, 'Masha Allah. And I pray you have 7 grandsons'! 
হাসি খুব কষ্টে আটকে রাখলাম। কারণ জানতাম, আরবদের কাছে এটাই বড় দু'আ। 

ভাষা শুনেই বুঝতে পেরেছিলাম মিশরীও অরিজিন। ঠিক ওই সময়টাতে মিশরে চলছিল ধর্মীয় লোকদের নিধন অভিযান। সেই মানুষগুলোর সাথে রিলেট করতে সময় লাগলনা। আল্লাহ যেন এসব পরিষ্কার মনের মানুষগুলোকে রাহম করেন। 

কস্টকো-র ঘটনা যেই খারাপ স্ট্যাম্প মাথায় ছিল - ওটা কিছুটা হলেও হালকা হলো। 
[contd..]

সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৩

বৈচিত্রময় দেশ থেকে ফিরে ...১


আমেরিকা দেশটা একটা সালাদ বউল, তারমধ্যে নিউ ইয়র্ক আরো বেশি। কে আমেরিকান আর কে না বোঝা মুশকিল; সাবওয়ে ট্রেন গুলাতে উঠলে বোঝা যেত দেশটা একই সময় চীন, ইন্ডিয়া, পেরু এবং এরাবিয়ার লোক দিয়ে একাকার হয়ে গিয়েছে। টুরিস্ট ছাড়া সব আমেরিকান। বলা হয় 'ইটস ল্যান্ড অফ অপর্টিযুনিটি'....তাই পৃথিবীর সব কোন থেকে মানুষ ছুটছে সেই দেশে। বলা হয় 'ইটস এন ওপেন সোসাইটি' - সবার জন্য খোলা। 

আম্মারকে নিয়ে খোলা জায়গায় ঘুরতে যাওয়ার মানে ছিল একটা ম্যারাথন। খোলা জায়গা মানেই তার কাছে খেলার মাঠ। আর শপিং সেন্টার হলে তো কথায় নেই - খেলার মাঠ, সাথে ফ্রি হাতের নাগালে টেনে নামানোর জিনিস। পিছু নিতে ২ জন আর দৌড়াতে লাগত ১ জন। কারো শপিং কার্টের সামনে আর কারো চলার পথে গিয়ে থেমে যেত। আর বারবার সরি বলে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া একটা রুটিন হয়ে গিয়েছিল।

ওখানে কিছু শপিং ব্র্যান্ড আছে - যেগুলো প্রতিটা স্টেট এই দেখা যাবে। এক একটা বিশাল জায়গা জুড়ে এরকম নামকরা ৬-৭ টা শপিং ব্র্যান্ড একসাথে করে রেখেছে তারা। এরকম একটা ব্র্যান্ড হচ্ছে কস্টকো। কস্টকোর বৈশিষ্ঠ একটু ভিন্ন - কিনলে হোলসেলে কিনতে হবে। সাবান কিনতে গেলে - ১৬ টার কমে না। বাচ্চাদের ডায়াপার কিনতে গেলে - একবারে ৮০টার প্যাকেট। চকলেটের এক প্যাকেটে ২০০টা। সস্তা পরে দেখে অনেকেই যায় - কযেক সপ্তাহের বাজার করে আনার জন্য। হাইলি কমার্শিয়াল এক দেশ - ক্রেতারও কমতি নেই। হাতের নাগালে সবকিছু দিয়ে দেওয়া। ভ্যারাইটি এবং চয়েস এর বাহার সবকিছুতেই। সারা সপ্তাহ ধরে ৮-১২ ঘন্টা করে খাটতে হবে - প্রতিদিনের জীবনে সেই খাটুনির ফল পায় এসব চয়েসের মধ্য দিয়ে। 

সেদিন কস্টকোর আইলের ভেতর আম্মারকে খুঁজে বের করে যেই কোলে ওঠাতে যাব - এক বয়স্ক মহিলার সামনে গিয়ে সে দাড়িয়ে গেল। সাথে সাথে 'সরি' বলে ওকে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম - মহিলা তখন আমাকে কন্ফ্রণটিঙ ভাব নিয়ে জিজ্ঞেস করলো - 'Why do you wear that on your face?' [নীকাব দেখে বলল]

প্রথমে একটু হকচকিয়ে গেলাম। সাথে সাথে মনে হলো - জিজ্ঞেস করতেই পারে; কারণ শুধুমাত্র হিজাব পরে এরকম মহিলার সংখ্যাই কম।

বললাম, 'It's because of my religious belief'

তখন সে বেশ রুক্ষভাবে বলল, 'It is NOT your religious belief. I know it's NOT your religious belief. Your religion doesn't ask you to do that'

বুঝতে বাকি রইলোনা - সে জানার জন্য আমাকে প্রশ্ন করছেনা।

আমার ননদের দিকে দেখিয়ে বলল (সে হিজাব পরে) - 'She doesn't put that thing on her face. Why don't you just cover like that?'

ধৈর্য ধরে উত্তর দিলাম, 'It's a choice. You have the choice to pick which you would prefer. There are several interpretations to pick from'.

সে তখন আরো উচ্চ গলায় বলল, 'Don't give me that. I have studied your religion. Do you know why I think you do that? I think it's because you are a terrorist.' 

:-|কি আশ্চর্য!

এর আগে অফিসের কাজের কারণে Scandinavian লোকজনের সাথে মিশেছি। মিশে মনে হয়েছিল - ওদের কাছে 'নিকাব' কোনো সময় - individual choice of an independent woman - মনে হয়না। কিন্তু তাদের প্রশ্নের জবাবে যখন বুঝিয়েছি এটাই আমার ইচ্ছা - my choice - তখন তারা সেই choice কে শ্রদ্ধা দেখিয়েছে। ধর্মের এই বিধানের অন্তর্নিহিত কারণ জানতে চেয়েছে।

কিন্তু এই মহিলা ছিল ভিন্ন। সে ক্ষোভে ফেটে পরছিল - এই আমি এই রকমের পোশাকে তার সামনে দিয়ে যাচ্ছি, সেটাই সহ্য হচ্ছিলনা।

আমি তারপরও ঠান্ডা মাথায় বললাম, 'Not a single terrorism act in recent years inside US was done by people who cover their faces, was it?'

সে তখন আরো ক্ষেপে গেল। বলল, 'How do I know what your face looks like? You wouldn't show your face to me, would you? Because you are one.'.

মহিলাকে যখন তাও দেখালাম, সে একটু থেমে আবার বলল - 'But I still think you are a terrorist'.
মহিলা চলে গেল।

বেশ! আমার নিকাব না, আমার চেহারাও এখন 'terrorist' !

এমনও হয়েছে - ঠোঁটে সিগারেট, হাত-পায়ে টেট্টু এবং ভ্রুর উপর পিয়ার্স করা মহিলা বের হয়ে যাবার সময় আমার জন্য শপিং সেন্টারের দরজা ধরে রেখেছে যাতে বাচ্চাসহ সহজে বের হতে পারি। আবার কারো মুখের উপর অন্য কাউকে 'terrorist' গালি দিতেও বাঁধেনা। 

An open society, alright. Openness with some ‘if-s’ and ‘but-s’. 

(Contd...)

সোমবার, ১৩ মে, ২০১৩

Mothers' Day 2013


It was all chaotic around me. I was standing there, trying to understand what was going on. Dust and darkness outside; numbness inside me. I was looking for something in that darkness. A very special someone. Everyone was there - at home- safe and sound. But someone special was missing. Then they came in with the news. My son had been found. Dead. My son, my loving son.

I tried to imagine what he would look like - wrapped in a white cloth. Only the face would have been left uncovered. He was lying there with closed eyes and a calm face. With olive skin, thin face and a sharp nose - it was my son. It wasn't Ammar. But it was my son.

I wasn't crying. I wasn't wailing. I was just asking where his body was. I just wanted to see his body. 'He has been buried already' - came the reply.
 
That was the last straw. That's when my heart was torn to bits. I screamed again and again - I wanted to see my son. For one last time. 'Please'. I was pleading again and again.
 
That us when I woke up. It was a nightmare I had awaken from. I was empty. I realize now -I have the privilege to wake up to reality. So many mothers don't. They will wake up to the nightmare everyday for the rest of their lives.
I have been scarred for life. I am now prejudiced for good.
Oh Lord, the One who has given all mothers the highest of status, please make these mothers meet their sons in the best of places, in the highest of heavens in the Hereafter. In a life which will last forever and ever. Ameen!






বুধবার, ২০ মার্চ, ২০১৩

হাশিম আমলা আর শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ

'গণজাগরণ মঞ্চের প্রবর্তক' দের 'ইসলাম' প্রীতি বাড়ছে দেখে ভালই লাগে। তবে তাদের ইসলাম প্রীতি প্রমান করতে গিয়ে - যেই উদার মানসিকতার দরকার, তা কোনো ভাবেই প্রমান করতে পারছেন না।

আজকে ওনারা হাশিম আমলাকে টেনে নিয়ে এসেছেন। হাশিম আমলার পরিচয় এবং ধর্মের জন্য যে ত্যাগ - তাতে নিশ্চই আমাদেরকে নতুন করে শেখানোর কিছু নেই। কিন্তু এই নব্য 'ইসলাম' প্রিয় মানুষেরা আমাদেরকে নতুন করে হাশিম আমলাকে চেনাতে এসেছেন।

ওনাদের ধারা ভাষ্যর এক জায়গায় লেখা - 'গতকালকের ওয়ান ডে খেলায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান কে পরাস্ত করবার সময় দেশপ্রেমিক হাশিম আমলার ব্যাট যেন হয়ে উঠেছিল তরবারী।' ভাবখানা এমন - যেন 'ইসলামী প্রজাতন্ত্র' আর 'দেশ প্রেমিক' শব্দ ২টি - opponents.
একজনের সাথে আরেকজন ব্যাট না নিয়ে - যেন তরবারি নিয়ে নেমেছে। I am sure Amla is a sportsman!

হাশিম আমলার বিশ্বাসের ভিতরে শুধু দেশ প্রেম আছে? 'ইসলামী প্রজাতন্ত্রের' যেই values, আপনারা বলতে চাচ্ছেন তা নেই? কথা এমন ভাবে প্রকাশ করছেন যেন - 'ইসলামী প্রজাতন্ত্রের' বিরুদ্ধে একজন মুসলিম একজন ইহুদির সাথে কাঁধে কাঁধ রেখে যুদ্ধ করছে ! আচ্ছা - হাশিম আমলাকে যদি তাদের এই লেখার ধরন দেখানো হয় - তখন কি হবে?

এমন উদার মানসিকতার ওনারা - খেলাকেও ছাড়েননা।

ধারাভাষ্য এখানেই শেষ না। অধিনায়ক ডি ভিল্লিয়ের্স এর সাথে আলিন্গন্রত ছবি দেখিয়ে বলছেন ওনারা - দি ভিল্লিয়ার্স একজন ইহুদি। আবার বলছেন 'আমাদের দেশের হিসেবে একজন নাসারা।----- আইকন মুসলিমের আলিঙ্গনে একজন নাসারা - সহযোদ্ধা' (ওনারা জানেন না - নাসারা বলা হয় খৃষ্ঠান ধর্মালম্বীদের; ইহুদিদের বলে -'ইয়াহুদ।' এটাই হচ্ছে ওনাদের ইসলামী এবং আরবী জ্ঞান এর দৌড়।) মানেটা কি? এনারা কি বলতে চাচ্ছেন? নিজেদের অসহিষ্ণু চিন্তাধারার ধরন দেশের আর সব মানুষ লালন করে? এরকম ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশটাকে কি বানাতে চাচ্ছেন তারা? আরে - ইসলামী দলগুলো এদেশকে আফগানিস্তান বানানোর আগে - তারাই তা বানাচ্ছেন। নিজেরা ভালো চিন্তা লালন করতে পারেন না - তাই বলে পুরা দেশের আমজনতাকে তাদের চিন্তার থলের ভেতরে ভরার অধিকার কে দিয়েছে তাদেরকে? ধর্মীয় চিন্তাধারাকে তারা সহ্য করতে পারবেন না, ধর্মীয় সম্প্রীতিকে আঘাত দিয়ে ভেঙ্গে দিতে চাইবেন; আবার একজন ধার্মিক লোকের values কে নিজেদের চিন্তাধারার ধাঁচে ফেলে, সেটার অপব্যাখ্যা করছেন। I am sure Hashim Amla doesn’t have shallow knowledge about Islam like they do.

নব্য 'ইসলাম' প্রেমীদের বলছি -

আপনাদের মনে নেই - এই সেই সাউথ আফ্রিকান ক্রিকেট টীম - যারা ডিন জোন্সকে চাকুরিচ্যুত করাতে বাধ্য করেছিল যখন সে আমলাকে দাড়ির জন্য 'সন্ত্রাসী' বলে মন্তব্য করেছিল? এবং সেই টিমেরই অধিনায়ক এই - ডি ভিল্লিয়ার্স। এটাই হচ্ছে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা। পরস্পরের ধর্মীয় সহিষ্ণুতা। আপনারা যে হারে ইসলামের পক্ষের মানুষদের 'ছাগু', 'রাজাকার', 'ধর্মান্ধ' বলে গালি দেন - আপনারা ডি ভিল্লিয়ার্স এর টিমে স্থান পাবেন না; পাবেন - ডিন জোনস এর টিমে। আর আপনাদেরকে ডি ভিল্লিয়ার্সের সাউথ আফ্রিকান টিম চাকুরিচ্যুত করতে বাধ্য করবে।

আরেকটা কথা মনে রাখবেন - হাশিম আমলা শুধু নিলসেন ম্যান্ডেলার সাউথ আফ্রিকার খেলওয়ার নন। সে আহমেদ দিদাতের সাউথ আফ্রিকারও খেলওয়ার।
এই ২এর সমীকরণ আপনারা বুঝবেন না। বোঝার ক্ষমতা হবার আগে ইসলাম নিয়ে ধান্দাবাজি বাদ দেন।

রবিবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

আদিলের দৌড়

৮-৯ বছর আগের কথা। আদিল তখন ক্লাস ৭-এ। সে ছিল গ্রামের সবচাইতে দুষ্টু বাচ্চাগুলোর একজন। কেও তার সাথে গাছ বাইতে সাহস করত না - কারণ সবচেয়ে উঁচু গাছ সে বেয়ে উঠত। সাতারে কেও তাকে হাঁরাতে পারত না। ক্লাসেও ছিল তুখোর। মা'র বকুনি দেবার চান্সটাও থাকতনা - শুধু দৌড় আর দৌড়। ২ পা যেন দিক্বেদিক ছুটেই চলছে। তার দৌড় যেন সবকিছু নিয়ে - একটু বেশি তারাহুরা সবকিছুতে।

সেদিন সে দেখছিল বাসার চালের ঠিক উপরে আম ঝুলছে; মাত্র আম ধরা শুরু হয়েছে। ব্যস - উঠলো সেই ডালে। যে ছেলের কাছে নারিকেল গাছ বেয়ে উঠা ব্যাপার না - সেই ছেলেই ঐদিন পিছলে গেল ছোট একটা ডাল বেয়ে উঠতে গিয়ে। আর ওখানেই শেষ হয়ে গেল তার দৌড় - সেই তড়িত গতির ২পায়ের দৌড়। ব্যাথায় চিত্কার করতে লাগলো। সদরের ডাক্তার বুঝলো আদিলকে সে কোনো উপকার করতে পারবেনা। চঞ্চল সেই আদিলকে নিয়ে আসা হলো ঢাকায়। এক্স, রে, করে দেখা গেল - মেরুদন্ডের নিচের দিকটা একেবারে টুকরো হয়ে গেছে। অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হলো। শুধুমাত্র তাকে বাচানোর জন্য। হুট করে দরকার হলো রক্তের। ভাগ্যের জোরে আমার রক্তের সাথেই মিলে গেল সবকিছু তে। জীবনের প্রথম রক্ত দেয়া - চঞ্চল আদিলের জন্য। ও বেঁচে গেল - কিন্তু চিরতরে সেই হারিয়ে ফেলেছিল তার দুরন্ত পায়ের সব জোর। আল্লাহই জানেন এর মধ্যেও নিশ্চই কোনো উপকার আছে তার জন্য।

তার ছোট্ট ভাইকে সেবার সে বলল – ‘ও আমার ভাইটা , তোর পা ২টা আমাকে দিবি? আমি কথা দিচ্ছি সারা জীবন তোকে আমি কোলে নিয়ে বেড়াব’।
যেই মা অতিষ্ট হয়ে যেত আদিলের চঞ্চলতায় - সে বাকরুদ্ধ।

সি,আর,পি, তে থাকলো কিছুদিন - নিজের উপর নির্ভর করতে শিখল, হাতের কাজ তার বাড়তে লাগলো। গ্রামে ফিরে গেল। কিন্তু সেখানে গিয়ে সে হয়ে গেল - শো পিস। সবাই দেখতে আসল তাকে - কিভাবে সে হাত দিয়ে সব কাজ করছে, আর পা ২টা নিস্তেজ হয়ে আছে। ক্লাসে যেতে গেলে - রাস্তা দিয়ে সবাই তার পিছে যাওয়া শুরু করলো। self-prestigious তার মন আর মানলনা - ক্লাসে যাওয়া বন্ধ করে দিল। বাসায় বসে একটু আধটু পড়ল। আসতে আসতে দিন গড়িয়ে তার সহপাঠীরা ক্লাস ১০ এ উঠলো। মেট্রিক পরীক্ষা দিতে গেল। তার কাছে অঙ্ক আর ইংলিশ পড়তে আসা ছাত্রগুলো খুব ভালো রেজাল্ট করলো। সে বসে রইলো বাসায় তার খাটের উপর।

পরিবারেরই অনেকে চিন্তা করতে লাগলো - কার উপর তার নির্ভর করে থাকতে হবে সারা জীবন? কে তার দায়িত্ব নিবে? তার খরচের ভার কে সামলাবে? উটকো ঝামেলা কে পোহাবে? সামনা সামনি বলতেও অনেকে দীধা বোধ করলোনা। ওই সময় - বেড়াতে যাওয়া হয়েছিল গ্রামে। তখন খুব করে বুঝিয়েছিলাম আমি আর আমাদের এক ভাবী মিলে।

আসতে আসতে তার মনের জোর একটু ফিরতে শুরু করেছে। নিজ থেকে খুঁজে বের করেছে রাজশাহীর এক প্রতিষ্ঠান - যেখানে পক্ষাঘাতগ্রস্থদের নিয়ে একটা স্কুল আছে। এখন সে সেখানে নিজেই থাকছে। আর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে - তার সেই অদম্য চঞ্চলতাকে ফিরিয়ে আনতে।
===============================

আদিল এবার মেট্রিক পরীক্ষা দিচ্ছে - তার সেই ছোট্ট ভাইটার সাথে। টেস্টে গোল্ডেন-এ পেয়েছে।
এই মাত্র ফোন করে জানালো -বাংলা পরীক্ষা দিয়ে এসেছে।

এই ভাইটার জন্য সবার কাছে দো'আ চাচ্ছি। আল্লাহ কার হাতকে কবুল করবেন - একমাত্র তিনি জানেন!

শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৩

নিভৃতে

গত পরশু মা তার সিনিয়র (বেশ নামকরা একজন ডাক্তার) এক আন্টির সাথে দেখা করতে গিয়েছিল তাঁর ধানমন্ডির ক্লিনিকে। গতকাল ডাইনিং টেবিলে বসে যখন আম্মার দুষ্টমি করছিল - তখন মা সেটা দেখছিল আর বলছিল, 'একজন ৭টা বাচ্চা নষ্ট করেছে'!

'৭টা'?

মা পরে ধীরে ধীরে বলল - ক্লিনিকে যখন দেখা করতে গিয়েছিল, তখন এক মহিলা এসেছে আন্টির কাছে। তার নাকি বাচ্চা হচ্ছেনা। হিস্ট্রি নিয়ে জানা গেল - সেই এর আগে ৩টা বাচ্চাকে মেরে ফেলছে জন্মের আগেই। যেটাকে ডাক্তারি টার্মে বেশ 'ভদ্র' ভাষায় বলে 'এম,আর'।বাচ্চার টাইমিং ঠিক নাই। 'বাচ্চা ভুল সময় দুনিয়াতে আসতে চেয়েছিল' - তাই ৩টাকে ধরে পর পর ফেলে দিল। মা শুনে যখন কিছু বলতে গিয়েছিল, তখন আন্টির এসিস্টেন্ট বললেন, 'আপা, কালকে একজন আসছিল - ৭টা বাচ্চা নষ্ট করসে। এখন আর বাচ্চা হয়্না দেখে চিকিত্সা করতে আসছে'!

৭টা বাচ্চা ফেলে দিয়েছে। এদের কাছ থেকে শুনে মনে হবে - সেই unborn বাচ্চাগুলো হচ্ছে আবর্জনা।' টাইমিং ঠিক নাই। খরচ বাড়াবে। পড়াশোনায়/কাজে উটকো ঝামেলা পাকাবে। So - just get rid of them'. দেখে অবাক লাগে - এরাও নাকি মা?! আর সবকিছু বাদ দেই।সব ধরনের নাড়ির সম্পর্ক বাদ দেই। শুধু একটা fact যদি মাথায় নেই - আর সেটা হচ্ছে, এই বাচ্চাগুলোর তো জান ছিল।মানে এরা তো জীবিত ছিল। এদেরও তো এক পর্যায় গিয়ে খারাপ/ভালো লাগার অনুভূতি থাকে।এরাও তো ব্যথা পায়। হ্যা, জন্মের আগেই। আর দুনিয়াতে এসব নিষ্পাপ বাচ্চার আসার অধিকার যখন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে অন্য এক মানুষ তখন কি পরিমান নির্মম, নৃসংশ এক অবস্থায় সে বিদায় নিচ্ছে 'মা' নামের সেই মানুষের ভিতরে থাকা অবস্থাতেই।
আর এতগুলো বাচ্চা দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেবার পর - এখন নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য বাচ্চা নেবার চেষ্টা চলছে।

মা-র গর্ভের ভিতরটা হচ্ছে একটা লাইফ-সাপোর্ট এর মত। খাবার, শ্বাস-প্রশ্বাস - সবকিছুর জন্য সেই বাচ্চা ওই গর্ভের উপর নির্ভরশীল।সেটা হয় বাচ্চার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল। যখন সেই লাইফ-সাপোর্ট-র সব যোগাযোগ মা নিজ হাতে হুট করে টেনে ছিঁড়ে ফেলে, টেনে-হিচড়ে তার সবধরনের সহায় থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়, যখন এই নির্মম অবস্থায় বাচ্চা আর বাঁচতে পারেনা - তখন আমরা সেটাকে মেনে নেই। কারণ সেটা হচ্ছে গর্ভের সেই পর্দার আড়ালে। কিন্তু একই সমাজে যখন কোনো মা - তার ৩-৪ বছরের ছেলেকে খুন করে, তখন হই-হুল্লোর পড়ে যায় সব জায়গায়। Media তে ফলাও ভাবে বিবরণ আসতে থাকে - কত পাষন্ড সেই মহিলা। আমরা বিলাপ করতে থাকি, মা-দের অবস্থান এবং তাদের মর্যাদা কিভাবে ধুলিস্যাত হচ্ছে। সমাজ কই যাচ্ছে - হায় হায়! কোনো বাপ যখন তার বাচ্চাকে মেরে ফেলে তখন বলা হয় - জানওয়ার ছাড়া সে কিছু না। কিন্তু যখন এক এক জন মা তার ৩-৪টা বাচ্চা ডাস্টবিনে ফেলে দিচ্ছে, এক একটা বাপ চাচ্ছে সেই শিশুকে দূর করতে, আর এসব কোনো দোষ হিসেবে গন্য হচ্ছেনা - তখন সেই সমাজের ভিতর থেকে পঁচে যাচ্ছে, একটা পর্দার আড়ালে।

আল্লাহ নিশ্চই সুবিচারক। এই দুনিয়াতে এসব মার্ডার কেসের আসামীগুলো কোনো বিচারের সম্মুক্ষীন না হলেও - হাশরের ময়দানে হবে। আর তখন সেই নিষ্পাপ বাচ্চাগুলোকে জিজ্ঞেস করা হবে - 'তোমাদের কোন দোষের কারণে মেরে ফেলা হয়েছিল?'

'দারিদ্রের ভয়ে তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না। তাদেরকে এবং তোমাদেরকে আমিই জীবনোপকরণ দিযে থাকি। নিশ্চই তদেরকে হত্যা করা মারাত্মক অপরাধ' (সুরা বাণী ইসরাইল, আয়াত ৩১)
'যখন জীবন্ত প্রোথিত কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে, কি অপরাধে তাকে হত্যা করা হলো' - (সুরা তাকবির, আয়াত ৮-৯)

মঙ্গলবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৩

কিছু ছোট প্রশ্ন (জাফর ইকবাল স্যার এর কাছে):

১। আমরা অনেকেই জানি ও বিশ্বাস করি আমাদের দেশের অনেক তরুণ অনেক শক্ত বিশ্বাস আর ধারণা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এবং সেই শক্ত বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটছে - তাদের প্রতিবাদী কন্ঠে আর তাদের অদম্য স্পৃহায়। বিশ্বাসে দুর্বলতা বা আবছা হবার কারণ কি কম বয়স? বিজ্ঞানের কোন theory এটাকে support করে? একটাই ফ্যাক্টর থাকতে পারে - সেটা হচ্ছে অভিজ্ঞতা। আর এই globalization, তথ্য প্রযুক্তি, আর ফাস্ট-ট্র্যাক জীবনধারার যুগে বোধ করি অভিজ্ঞতার সাথে বয়সের সম্পর্ক দিন দিন কমে যাচ্ছে। সুতরাং আপনার নিজের বয়সের অভিজ্ঞতাকে অন্য তরুণদের উপর short-circuit করাটার পেছনে বয়সের উদ্ধৃতি দেয়াটা কতখানি সময়োপযোগী?

২। বৈচিত্রের সৈন্দর্য (বা the beauty in diversity) - খুবই প্রাসঙ্গিক একটা বিষয়। কিন্তু বিশ্বাসে বৈচিত্র থাকাটার অর্থ কি 'আমার বিশ্বাসটাকে সত্য মনে করে অন্যের বিশ্বাসকে সম্মান দেখানো' নয়? নিজের বিশ্বাসটা ঠিক - এই আত্মবিশ্বাসটুকু একটা তরুণ বা তরুনীর থাকতেই পারে। আমার পাশের মানুষটির ধারণা আমার বিশ্বাসে হয়ত সঠিক নয়। কিন্তু তাকে তার জায়গাতে থেকে তার বিশ্বাসে অটল থাকাটাকে সম্মান দেখানো - সেটাই আমার কর্ত্বব্য। এটাই তো সৈন্দর্য। A combination of self-confidence and mutual respect.
আপনার প্রশ্ন দেখে মনে হচ্ছে ধর্মীয় ব্যাপারে কোনো তরুণ আত্মবিশ্বাসী - এটাই আপনার কাছে একটা আবছা জিনিস। এবং এই আবছা জিনিস থেকে বের হয়ে আসার জন্য আপনি তরুণদের short-circuit করাতে চাচ্ছেন। আমার কাছে আপনার এই ধারনাটা খুবই অসম্মানজনক মনে হয়েছে। বৈচিত্রের সংগাটা কি এটাই হবে?

৩। ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা - এটা সব ধর্মের মানুষের মধ্যে একটু আধটু বিরাজ করে। কোনো ধর্মে বিরাজ করেনা। যাকগে। আপনি বারবার অন্য ধর্মের লোকদের উপর অত্যাচারের প্রসঙ্গ নিয়ে আসেন। একটাবার মুসলিমদের উপর অত্যাচারের প্রসঙ্গ এনেছেন কি? না এনে থাকলে - কেন? আপনার sense of diversity কি মুসলিমদেরকে বাদ দিয়ে গঠন হয়েছে? আপনি যদি নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ দিয়ে দেখেন - তাহলে আপনার লিখায় অত্যাচারের বিষয়টা statistically correlated হওয়াটা যৌক্তিক ছিল। আজকের বিশ্বে মুসলিমদের মত অত্যাচারিত গোষ্টি সেক্ষেত্রে আর কেও নেই। কিন্তু আপনার লেখা দেখে মনে হবে - মুলসিম? তাও আবার অত্যাচারিত? সত্যি - short circuit!

মুসলিম অত্যাচারিতদের প্রতি আপনার এই অসহিষ্ণুতা কোন পর্যায় নিয়ে যেতে চাচ্ছেন? আমাদের দেশেই যখন নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসে আত্মবিশ্বাসী কিছু মুসলিম তরুনকে আপনি টিটকারী দিয়ে লেখা ছাপান তখন - আপনার 'বৈচিত্রের সৈন্দর্য' কোথায়? যখন আপনার প্রতিবাদী কন্ঠ শুধুমাত্র আপনার পছন্দনীয় কিছু বিষয়ে সোচ্চার হয়ে উঠে - তখন আপনার এত বয়স হবার পরও চিন্তাধারা বা ধারণা কতখানি স্পষ্ট হয়েছে?

৪। রামুর ব্যাপারে আপনি বলেছেন এদেশের ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদ আপনি দেখেননি। শুধুমাত্র ফেইসবুকএ 'লাইক' দেয়া দেখেছেন। আপনার এই ভ্রান্ত ধারণা লালন করার কারণ কি? কারণ কি এটাই কি যে আপনি শুধু ফেইসবুক-এর জগতে বসবাস করেন? রামুতে reconstruction এর কাজে কত তরুণ স্বেচ্ছাকর্মী হিসেবে যোগ করেছে - তা কি আপনার জানা নেই? তরুনদের শুধু চিন্তাধারা আপনার কাছে আবছা লাগছে না - আপনার অজানা তাদের কাজগুলোও আপনার কাছে আবছা লাগছে। নাকি? ঠিক তেমনি তাদের ধর্মীয় আত্মবিশ্বাস আপনার frequency তে না ধরা পড়ায় - সেটাও আপনার কাছে আবছা লাগার কারণ হতে পারে কি?

৫। আয়নাতে দেখছেন - আপনার চুল, গোফ সব পেঁকে সাদা হয়ে যাচ্ছে। আপনি নিজেকে বয়স্ক মনে করছেন না। কারণ 'you feel young at heart.' আপনার নিজেকে বয়স্ক মনে হয়না। আপনি দয়া করে আবার একটু আয়নার সামনে দাড়াবেন কি? চুল, গোফ - শুধু সাদা হচ্ছেনা। আপনি দেখবেন আপনার চামড়াও কুকড়িয়ে যাচ্ছে। There are visible wrinkles on your face. আপনার cellular senescence হচ্ছে। আপনার বয়স বেড়ে আপনি একটা সময়ের দিকে ধাবিত হচ্ছেন। সেই সত্য, সেই সময়টাকে - আজ পর্যন্ত কোনো নাস্তিকও মিথ্যা প্রমান করতে পারেনি। আপনি তো নিজেকে নাস্তিক ঘোষণা দেননি। তাই এই সত্যটাকে অনুধাবন করাটা আপনার কাছে আরো সহজ হবে। সে সত্যটা হচ্ছে মৃত্যু।

আমার শেষ প্রশ্ন - এই মৃত্যুকে আপনি কিভাবে দেখেন?

[Aging - রেফারেন্স এর জন্য Muhammad ibn Yusuf al-Haraw এর Ainul Hayat বইটি পরে দেখতে পারেন। আপনি হয়তবা ধারণা করবেন - মুসলিমদের ইসলামিক রেফারেন্স আপনার দরকার নেই। কিন্তু বিশ্বাস করুন - এটাই হচ্ছে Aging Process নিয়ে বিশ্বের প্রথম নিয়মনিষ্ঠ বই। wikipedia-র মতে 'The book discusses behavioral and lifestyle factors putatively influencing ageing including diet, environment and housing conditions. Also discussed are drugs that may increase and decrease ageing rates.' বইটি আপনার পছন্দ হতে পারে।]

রবিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১২

স্বাধীনতার অর্থ এখন এদেশে ....

"স্বাধীনতার স্বপক্ষের" শক্তি হতে হলে অমানুষ হতে হবে, সৃষ্টির নিকৃষ্টতম জীব হতে হবে। যুবক কুঁপিয়ে আর বৃদ্ধ পিটিয়ে মেরে ফেলে আনন্দ মিছিল করা -এটাই যখন বাস্তব নিদর্শন 'স্বাধীনতাকামীদের' - তাহলে আমাদের জ্ঞানহীনতা মনে হয় একটা গজব! আল্লাহর গজব!

স্বাধীনতার অর্থ হয়ত আমরা সবাই বুঝিনা; কিন্তু সত্য ও মানবতা - এই গুলোতো মৌলিক। আফসোস - এই মৌলিক বিষয় খর্ব করেই স্বাধীনতার তথা বিজয়ের মাস উদযাপন করতে চলেছি।

ছি! ছি!

We are YET to be humans. Independence comes later!
----------------------------
In the name of Allah, the Beneficent, the Most Merciful

95:4 We have certainly created man in the best of stature;
95:5 Then We return him to the lowest of the low,
95:6 Except for those who believe and do righteous deeds, for they will have a reward uninterrupted.
[Surah At-Tin]

বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০১১

সেই আমরা :) - ৩

সমগ্র বাঙালি আন্ডা বাচ্চাগুলার কাছে ভয়ের কারণ ছিল আমার মা-র ইনজেকশন দেবার ক্ষমতা! বিশেষ করে খাওয়া নিয়ে ঘেনঘেন করলেই - আন্টিরা আমার মা'র নাম ধরে threat দিতেন। এই খাওয়া নিয়ে আমি নিজেও ভুক্তভোগী - জোর করে খেতে হত, না খেলে উপায় নেই (আমার ক্ষেত্রে যদিও ইনজেকশন প্রযোজ্য ছিলনা; চিকন সুচকে ভয় পেতামনা; আমার ক্ষেত্রে threat ছিল টিভি না দেখতে পারা!)। খেতে হবে - স্বাস্থ্য ভালো করতে হবে। রুচি কিংবা ক্ষুধা - কোনটাই কোনো পাত্তা পেতনা মা'র কাছে।

আমাদের বাসায় ময়লা ফেলার সিস্টেম ছিল সে সময়ের তুলনায় বেশ interesting। ফ্ল্যাট থেকে বেড় হয়েই, সিঁড়ির উল্টা দিকের একটা রুমে, দেয়ালের সাথে লাগানো একটা ড্রয়ার-এর মত ছিল। ঐ ড্রয়ার খুললেই - একটা লম্বা টানেল। টানেলটা বাসার একদম নিচতলায় গিয়ে একটা বড় ময়লার ট্রলিতে গিয়ে ঠেকত। উপর থেকে ঐ ড্রয়ার খুলে ময়লা ফেলে দিলেই - সেটা লাপাত্তা হয়ে যেত। তাই, খাবার সময় হাতের মুঠোয় খাবার নিয়ে ঐ ড্রয়ার পর্যন্ত যেতে পারলেই রক্ষা - চোখের নিমিষে খাবার শেষ! কিন্তু এই বুদ্ধি তখন রপ্ত করতে পারেনি আমাদের 'কুবরা'। কুবরা'রা ছিল তখন ৩ বোন। খাওয়া নিয়ে সবচেয়ে বেশি টেনশন করতেন আন্টি (কুবরার মা)। আন্টি খুব করে বলতেন 'আমার মেয়েদেরকে তো আমি খাওয়াতে পারিনা, ভাবী (মানে আমার মা) আমার বাচ্চাগুলাকে খাওয়া শিখিয়েছে!' এমনও দিন ছিল যখন বড় এক গামলায় খাবার নিয়ে মা সব আন্ডা বাচ্চা গুলাকে একসাথে খাওয়ায় দিত।ঠিক এরকম একদিন, মা খাওয়ায় যাচ্ছে আমাদের সবাইকে। কুবরা পটাপট খেয়ে ঘুরে ফেরত এসে আবার মুখে নিয়ে যাচ্ছে। আর আমাদের এক আগের লোকমাটাও তখনো মুখের ভিতর। মা তো বরই খুশি - কুবরার খাওয়ার উন্নতি দেখে। কুবরাও খুব খুশি - মা'র মুখে প্রশংসা শুনে।

রাত যখন ১১টা - সবাই যে যার বাসায় চলে গেছে। বাথরুমের বেসিনের কাছে গিয়ে দেখি - কমোডে খাবারের স্তূপ! কিচ্ছু বুঝার উঠার আগেই সজোরে চিত্কার করে আব্বাকে ডেকে নিয়ে আসলাম। খাবার কিভাবে ওখানে যাবে - সেটা তখনো মাথায় খেলার মত বুদ্ধি হয়নি। পরে খেয়াল করে দেখলাম ওখানে কিছু স্টিকারও পড়ে আছে (ঐদিন chewing-gum বিতরণ ছিল - আর সেটার সাথে থাকত স্টিকার)। এক একজনের ভাগে এক একরকম স্টিকার থাকায় - কুবরার স্টিকার কোনটা সেটা নির্ণয় করা কঠিন ছিলনা; ওর ঐদিনের খাওয়া দাওয়ার উন্নতির রহস্য ওখানেই শেষ হলো!


কুবরার আরেক বৈশিষ্ট ছিল - খাঁমচি দেওয়া! কোনো কিছু তার মতের বিরুদ্ধে গেলেই জোরসে এক খাঁমচি দিয়ে দিত দৌড়। পরে তার এই বৈশিষ্ট উত্তরাধিকার সূত্রে তার সবচেয়ে ছোট বোনটা পেয়েছিল। ছোট বোন আর ফাহিমার ভাই ছিল একই বয়সের - কিন্তু ২জনের স্বাস্থ্যের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। কিন্তু স্বাস্থ্য আর গায়ের জোরের যেই সম্পর্ক - তা পুরাই ভুল প্রমানিত করে দিত ঐ খাঁমচির জোর। আর সেজন্য আন্টির কাছে নালিশ ও যেত কম না। তখন মা'দের মার খাওয়া মানে হচ্ছে সবার সামনে অপদস্ত হওয়া। তাই বকা/মার যাই হোক - ওটার সম্ভাবনা থাকলেই আমরা দিতাম উল্টা দিকে দৌড়। আর কুবরা? সেই দৃশ্য হত অন্যরকম. বকা/মার যেটাই সামনে আসুক না কেন, সে আরো ২ হাত দিয়ে জড়ায় ধরত আন্টিকে - আন্টিও তাকে পেত হাতের কাছে!

এখন কুবরা নিজেই একজন মা! থাকে দেশের বাইরে। তাই ওর সাথে ওর পিচ্চিটার কতটুক মিল তা এখনো বোঝা যাচ্ছেনা... কিন্তু পিচ্চির চোখে মুখে দুষ্টুমি আর মাথায় বুদ্ধি গিজগিজ করছে - ছবি দেখলেই বোঝা যায়। অপেক্ষা করছি কোনদিন সামনা সামনি দেখে বিশ্লেষণ করা যাবে...


(To be continued...)

সেই আমরা :) - ২

সারা-রা ছিল ৩ বোন, ১ ভাই। বোনদের যেই একটু শান্ত-শিষ্ট ভাব থাকে - তার ধাঁরে কাছেও ছিলনা ৩ জন। বড়টা যা ছিল, ছোট ২টা তা উসুল করে নিত। একবার সেই দল-বল নিয়ে মক্কা যাওয়া হয়েছিল - যতদুর মনে পরে একসাথে ৫ টা পরিবার। মক্কায় যেই হোটেলগুলোতে থাকা হত - সেখানে প্রতিটা রুমে ফ্রিজ রাখা থাকত; প্রতিটা রুম ছিল ডাবল. সেবার যে হোটেল ঠিক করা হলো - সেখানে একটা রুম একটু ব্যতিক্রম ছিল; বেশ বড় আর সেখানে ৫টা বেড। সব আন্ডা বাচ্চাগুলা ওখানে জড়ো হলাম। আমরা ২ পরিবার আবার ঐদিনই বিকালে মদীনার দিকে রওনা হব - তাই তাড়াতাড়ি ওমরা সেরে ফেলার চিন্তা ছিল। যখন এক একজন এক এক দিক ছুটোছুটি করছি - ঠিক তখন ওই ব্যতিক্রম রুমটার ভিতর থেকে কোন সময় সারা আটকিয়ে ফেলেছে খেয়াল করেনি কেও।


বেশিক্ষণ যায়নি - ভেতর থেকে কেমন যেন একটা শব্দ আসতে লাগলো। কয়জন দরজায় কান লাগিয়েও বুঝলো না কি হচ্ছে। বাইরে থেকে অনেক চেচামেচির পর বোঝা গেল ভিতরে সারা চিত্কার করার চেষ্টা চালাচ্ছে, কিন্তু কোনো কারণে সে খুলতেও পারছেনা দরজা, না কিছু বলতে পারছে। উপায় না পেয়ে ডাকা হলো - বাবা মা'দের। লক করা দরজা। কোনোভাবে জোর জবরদস্তি করে লক ভেঙ্গে ভিতরে ঢোকা হলো। ভিতরে ঢুকে দেখা গেল - চেয়ার নিয়ে ফ্রিজ এর সামনে রাখা। উপরে ডীপ ফ্রিজের দরজা খোলা। চেয়ার এর উপর সারা দাড়ানো আর তার মাথা ওই ডীপ ফ্রিজের ভিতর। সে ওই অবস্থায় চিত্কার করার চেষ্টা চালাচ্ছে - কিন্তু মাথা কেন যেন বের করতে পারছিলনা। পরে দেখা গেল - ওর জীভ বের করা, আর সেটা ডীপ ফ্রিজের wall এ আটকে আছে! আন্ডা বাচ্চারা শুধু তাকিয়ে থাকলো ভয়ংকর সেই দৃশ্যের দিকে আর বাবা'রা লেগে গেল উদ্ধার করতে - কারেন্ট অফ করে, জীভ এর উপর পানি ঢেলে, আরো কি কি করে সারা-র ছাড়ানো হলো ফ্রিজ এর দেয়াল থেকে। জীভ এর অবস্থা টাইট হয়ে গিয়েছিল বাজেভাবে। আর যারা চিন্তা করছে জীভ টা ওখানে গেল কেন - তাদের অবগতির জন্য - সারার খুব বরফ খেতে ইচ্ছা হচ্ছিল, ডীপফ্রিজের দেয়ালে তাই সে চাটা শুরু করেছিল!! যারা physics পড়েছে - তাদের কাছে বোঝাটা সহজ হবে - বরফ গলেছিল জীভের তাপে, কিন্তু পরক্ষনেই সেটা আবার freeze হয়ে গিয়েছিল জীভটা সহ! এরপরের কয়েক মাস সারার কান্ডটা ছিল হট-টপিক - সবাই ওকে বরফ সাধত। :P

সারার ছোট ভাইটা যখন ১.৫ কি ২ বছর বয়স, তখন সৌদি আর বাংলাদেশ - ২ দেশেই টিভিতে দেখানো শুরু হলো Macgyver। সারারা তখন দেশে, আর আমরা সৌদিতে। তার যখন সৌদিতে ফিরল - তখন ওই ১.৫ বছর এর পুচকার দেখি চুল পিছন দিয়ে একটু লম্বা, সামনে দিয়ে ছাঁটা। চুল নাকি সে আঁচরায়না। হাতে সব সময় হয় একটা ছোট গাড়ি নাহয় screw driver। আর কেও তাকে তার আসল নাম ধরে ডাকলে সে রেগে যাচ্ছে। সে একটা বোতলে তেল নিয়ে - সেটা ঢেলে ফেল দিল, হাতে একটা ফিতা বেঁধে সেটা ব্লেড দিয়ে কেটে ফেলল; তারপর সে announce করত, 'আমি Macgyver'।

আরব বাচ্চারা ছিল বিচ্ছুর দল। বিদেশী বাচ্চাদের দেখলেই বেড়ে যেত ওদের মারামারি করার প্রবণতা। পাথর মারা ছিল তাদের বৈশিষ্ট; গাড়ির ছোট inidcator লাইট গুলা প্রায়ই ভাঙ্গা পাওয়া যেত - কারণ কোনো এক বাচ্চা পাথর ছুড়ে গুড়িয়ে দিয়েছে। এক পর্যায় গিয়ে - সে এক পক্ষের 'অত্যাচার' সহ্য হলনা। একদিন, হুট করেই ফাহিমাদের বাসার সামনে পুরা রণক্ষেত্র হয়ে গিয়েছিল। ওদের বাড়িওয়ালা ছিল সৌদি, সেই বাড়িওয়ালার ছেলে তার দল বল নিয়ে পাথর আক্রমন শুরু করলো। শুরু হলো সৌদি বনাম বাঙালি বাচ্চাদের মারামারি। পাথর ছোরা থেকে শুরু করে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া - কোনটাই বাদ থাকেনি। মারামারির সময় পুরা ধুলা উড়ে চারিদিকে তোলপার হয়ে গিয়েছিল। কিছুক্ষণ যাবার পর আন্টি (ফাহিমার আম্মা) রান্না ঘরে কি করতে গিয়ে জানালা দিয়ে দেখে বাইরে ধুলা বালি উড়ে একাকার! বের হয়ে দেখে তুমুল মারামারি চলছে। সব মা'রা বের হয়ে যেই উঠানে আসল - অমনি সৌদিগুলো দিল দৌড়। আর আমরা মনে করলাম - বেশ এক কাজ করেছি! হাত পা ছিলে ফেরত এসে মনে হলো - এর চেয়ে বড় বীরত্ব জীবনে দেখায়নি! :P এই মারামারির পর confidence বেড়ে গিয়েছিল। এরপর আমাদের বাসার সামনে যখন দোলনা খেলতে গিয়ে ফিলিস্তিনি বাচ্চারা সেটা কেড়ে নিতে এসেছিল - তখন দোলনা দিয়েছিলাম ঠিকই - কিন্তু একদম ছুড়েই দিয়েছিলাম. আর সেই দোলনা গিয়ে লেগে গিয়েছিল ফিলিস্তিনি মেয়ের ঠোঁটে!


(To be continued...)

সেই আমরা :) - ১


অনেকদিন ধরে লেখা হচ্ছেনা। আসলে লেখার জন্য যেই ছোট একটা push লাগে, সেটা খুঁজে পাচ্ছিলামনা। ২-৩ দিন আগে আন্ডা-বাচ্চাকালের এক বান্ধবী সেই আদিম কালের একটা ছবি ফেসবুক-এ পোস্ট করে দিল। ছবিতে আমাদের সবার চুল দেখি একই ধাঁচে কাটা! চুল ঝুঁটি করার মত বড় হয় নাই-- কিন্তু তাও চুলগুলো টেনে সে ঝুঁটি বেঁধে সজারুর কাঁটার মত মাথার উপর দাঁড় করিয়ে দেওয়া। ক্যামেরার সামনে সব আঁটশাট হয়ে দাঁড়িয়ে-- লাইন ধরে ছবি তুলছি আমরা। এক একজনের চেহারায় সেরকম এক্সপ্রেশন! ছবি দেখে হাজার স্মৃতি একের পর এক এসে মনে ভীড় করলো। মনে হলো এইতো সেদিনের ছবি! কিন্তু বছর হিসেব করে দেখলাম ছবিটা প্রায় ২ যুগ আগের! নিজেকে কেমন বুড়ি মনে হলো (obviously!); সেই ছোটবেলার নিরীহ . এখন আমরা সবাই দেশে. কিন্তু আমাদের ছোটবেলা দেশে কাটেনি. তাই অভিজ্ঞতা একটু ভিন্ন ধরনের ছিল. আশেপাশে বাংলাদেশী ছিল হাতে গোণা। যারা ছিল - তারা নিকট আত্মীয় থেকে কোনো অংশে কম তো ছিলই না, বেশি কিছু ছিল নাকি সেটা বিবেচনার বিষয়।

থাকতাম সৌদিতে - একদম দক্ষিণে, লোহিত সাগরের ধারে তুলনামূলক ছোট একটা শহরে। ওখানে রিক্সা বা বেবিট্যাক্সি মার্কা বাহন না থাকায়, বাবারাই ছিলেন একমাত্র চালক. তাই সবার বাবার চাকুরীর কারণে সারা সপ্তাহ বাসায় কাটাতে হত। আরবী স্কুল ছাড়া কোনো স্কুল ছিলনা, তাই স্কুল-বঞ্চিত ছিলাম। আমার বাবা/মা দু'জনই চাকুরী করায় আরেক ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছিল, যা নিয়ে হয়ত সামনে আরেকদিন লিখতে হবে। সপ্তাহে একদিন আমাদের re-union হত।কারো না কারো বাসায় বাবা-মা তাদের পোলাপাইন সহ উপস্থিত হতেন। নিজেদের মধ্যে সিরিয়াস আলাপ আলোচনা; আর আমাদের সে কি আনন্দ! একসাথে বারো-চোদ্দটা বাচ্চা এক জায়গায় - বাবা/মাদের আলাপের ঘর ছাড়া আর যেকোনো জায়গায় যা ইচ্ছা করা। এক একজন এক এক প্রকৃতির...আকার আকৃতিও এক এক ধরনের. একবার এক আন্কেল একটা কার্টুনএর সাথে আমাদের তুলনা করেছিলেন (সেই আঙ্কেলের তখন ৪টা আন্ডা-বাচ্চা আমাদের মধ্যে ছিল)। কার্টুনটার নাম ছিল 'captain majed' - যেখানে জুনিয়র ফুটবল খেলার দৃশ্য থাকত। এক খেলোয়াড় অন্য খেলোয়াড় এর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা - কেউ চশমা পড়া-কারো চোখ ছোট, কেউ মোটা - কেউ চিকন, কেউ সরল রেখায় চলে - কেউ একটু চালাক; কিন্তু গোল করার সময় ঠিকই করে! এই তুলনার পেছনের কাহিনী বুঝার বুদ্ধি তখন গজায় নাই - তাই শুধু শুনেছিলাম। কিন্তু এখন চিন্তা করলে মনে হয় আসলেই তো! সেই কাহিনী মনে পড়লে শুধু মনে হয় - ইয়া আল্লাহ! কি চিন্তাধারা ছিল আমাদের! অদ্ভূত কিন্তু নিরীহ! আলাদা ধরনের সুন্দর একটা উপলব্ধি। খুব মিস করি এখন!

আমাদের re-union এর এক এক মেম্বার-এর কিছু কাহিনী নিচে তুলে ধরা হলো। (নিচে সবার ছদ্মনাম দিতে হচ্ছে , যাতে বিব্রত বোধ না হতে হয় :-D; এরপরও যদি পরিচয় প্রকাশ হয়ে পরে - তাহলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে অনুরোধ করা হলো)।

সৌদিতে গিয়ে আমার সমবয়সী (আমার তখন বয়স ৪ বছর) প্রথম একজনকে দেখে খুবই আনন্দিত হয়েছিলাম। সে নিজের মধ্যে একটা ভাবগাম্ভীর্য বজায় চলত আর সবাইকে পরামর্শ দিতে বেশ পছন্দ করত। কিছু আরবী কথা বলায় আমি মেনে নিয়েছিলাম সে অনেক জ্ঞানী। আমার তখন লম্বা চুল এর প্রতি খুব কদর ছিল-- 'ফাহিমা' সেটাতেও এগিয়ে. তাই আমি তাকে আমার 'best friend' বলে স্বীকৃতি দিয়েছিলাম। আস্তে অস্তে যখন আমাদের আন্ডা-বাচ্চা গ্যাং এর মেম্বার বাড়তে লাগলো-- তখন দেখা দিল ছোট্ট সমস্যা। তাকে ছাড়া অন্য কারো কথায় মনোযোগ দিলেই সে মাইন্ড করে বসত-- এমনকি কথা বলাও বন্ধ করে দিতো! গালটাকে ফুলিয়ে দুরে গিয়ে বসে থাকত, মায়েদের সিরিয়াস আলাপ তখন তার কাছে শ্রেয় মনে হত। সেজন্য কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হত যাতে কিছুক্ষণ পরপর ওর চোখে চোখ রেখে কথা বলি- - সে তখন তুষ্ট চিত্তে ফিরে যেত। ওর ছোট বোনটা ছিল একটু নিরীহ প্রকৃতির, একটু কিছু হলেই কেঁদে দিতো! :-D পরের দিকে ওদের একটা ভাই হয়েছিলো-- খুবই গুব্দু গাব্দু, ফর্সা করে। কিন্তু ওই পিচ্চিকে নিলেই ওরা ভয় পেত যে ওদের ভাইকে কেউ নিয়ে যাবে। ওখানে একসঙ্গে থাকার আরেক বৈশিষ্ট্য ছিল - একসাথে journey করা। আমাদের ওখান থেকে মক্কা যেতে লাগত পুরা ১ দিনের মত। ফাহিমাদের গাড়িটা ছিল station wagon; যেখানেই যাই না কেন -- সব আন্ডা বাচ্চার সীট ছিল ওই গাড়ির পিছনের হুড-এ; রাস্তায় একটা দেখার বিষয় হত বটে। একসাথে এত্তগুলা বাচ্চা পিছনে করে নিয়ে যাচ্ছে একটা গাড়ি!

আমার সমবয়সী আরেকজন ছিল 'সুহা'. এক্কেবারে ভদ্র চেহারার অধিকারিণী-- যাকে দেখে মনে হত একটু 'বেশি ভালো'। আর আমার মা সব সময় ওর সাথে তুলনা করতে ভুলতেন না—“দেখেছ, কি সুন্দর করে ভাইটার যত্ন নেয়?”, “ও কত কাজ করে বাসার”,”ওর মাকে কত help করে”! মাঝে মাঝে মনে হতো-- ওর সমস্যাটা কোথায়? পরে অবশ্য ওর সাথে কথা বলে আবিষ্কার করেছিলাম ওর মা আমাকে দেখিয়ে ওকে একই কথা বলে। এরপর থেকে সেই কথার মূল্য কতখানি দেওয়া হয়েছিল মনে নাই। ওর একটা বড় ভাই ছিল-- যে সেলাই থেকে শুরু করে রান্না পর্যন্ত পারতো। একবার বাসায় দাওয়াত খেতে গিয়ে দেখা গেল ২-৩ টা আইটেম ওই ভাইয়ার বানানো কোন একদিন এক জামা পরে এসে দেখালো-- ওই জামা নাকি ওই ভাইয়া বানিয়ে দিয়েছে। ব্যস!! মায়েদের ‘আদর্শ' বাচ্চার ক্যাটেগরী তে ফেলা হলো ওই পরিবারের বাচ্চাগুলা কে!

(To be Continued)

রবিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১০

আমাদের অতীত ও ভবিষ্যত

সোহরাওয়ার্দী হসপিটালের করিডরে বসে মোবাইলে ইন্টারনেট গুতাগুতি করছি আর অপেক্ষা করছি আব্বার টেস্ট শেষ হবার জন্য। যেই বেঞ্চে বসে আছি - ওই বেঞ্চের অন্য মাথায় দুই ভদ্রলোক বসা। দুজনেই মধ্যবয়েসি- দুজনই রোগী। একদম সাদাসিদে কাপড়; একজন লুঙ্গি আর শার্ট আর অন্যজন সাফারি পরে এসেছে। লুঙ্গি-শার্ট পরা ভদ্রলোকের সাথে তার সঙ্গী এসেছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে শরীর বেশ খারাপ, বেশ দুর্বল-- মাথার চুল পড়ে গিয়েছে। পায়ে স্পঞ্জের স্যান্ডেল। অন্য ভদ্রলোক আরেকটু ফিট -- সে এসেছে একা। দু'জন বসে গল্প করছিল। আমার মনোযোগ ফেসবুক, gmail আর খবরের সাইটের দিকে হলেও মাঝে মাঝে তাদের দু'একটি কথা কানে আসছে। কিন্তু যখন তারা তাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের গল্প বলা শুরু করলো, তখন সেদিকে খেয়াল না করে পারলামনা-- তারা যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলছে!

লুঙ্গি-শার্ট পরা লোকটি গল্পের এক পর্যায় থেকে আরেক পর্যায় চলে যাচ্ছে - আর তার সেই কৃতি-ভরপুর জীবনের ছবি ভেসে উঠছে। কোন ব্যাচে ছিল, এ সময়ের কোন স্বনামধন্য ব্যক্তিরা তার ক্লাসমেট, কীভাবে দাবি আদায় করেছিল তারা.... একটার পর একটা যখন বলে চলেছিল - তখন শুধু এটুকুই মনে হচ্ছিল - সে সময়ের প্রাচ্যের অক্সফোর্ড এর ছাত্র ছিল সে-- কতখানি কৃতিত্বের অধিকারী সে! এত উৎফুল্লভাবে সে কথা বলে যাচ্ছে যে শারীরিক অসুস্থতার ব্যাপারটা তাকে দেখে এখন বোঝার উপায় নেই। অসুস্থতার ছাপ তখন আর তার চোখে থাকছেনা। এখনকার সমাজে বেশভূষা দেখে মানুষের 'স্ট্যাটাস' নির্ণয় করার যেই প্রথা-- সেই প্রথাকে সম্পূর্ণভাবে চূর্ণ করে চলেছে তার জীবন কাহিনী।


দু'জন গল্প করতে করতে চলে এলো এখনকার সময়ে। কার ছেলে মেয়ে কোথায় ... সব দূরে চলে যাচ্ছে পড়াশুনার প্রয়োজনে ...তারা একা হয়ে যাচ্ছে...কথা বলার মানুষ পাওয়া যায়না...আল্লাহ ব্যবস্থা করবেন নিজেরাই নিজেদের সান্তনা দিচ্ছে এই বলে যে -- 'এটাই জীবনের নিয়ম'। জীবনের বেশিরভাগ সময়টুকু পার হয়ে এসেছে - এখন হয়তো সান্তনা আর অতীতের স্মৃতি - এদুটোই তাদের জীবনের আলো হয়ে আছে। ভর দুপুরে দু'জনের ওই বেঞ্চে বসে আলাপ - আমাকে নিয়ে যাচ্ছিল এক সুন্দর অতীতে। অপরিচিত হওয়ায় ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও সেদিন ওনাদের সাথে কথা বলতে পারিনি...

সেই বেঞ্চের ছবি এখনো চোখে ভাসে। সেদিনটাকে বেশি মনে হয় যখন রাস্তায় হাঁটতে চলতে দেখি আজকালকার 'ultra-cool' বনে যাওয়া 'generation Y'-দের। কানে ear-plugs লাগিয়ে নিশ্চিন্তে হেঁটে চলছে তাদের পথ ধরে। জিন্সের প্যান্টের লাইনিং শেষ সীমান্তে পৌছে গেছে অথবা স্টাইলিশ জুতার হিলের শব্দ হচ্ছে। টি-শার্টের লিখনি দিনকে দিন বীভৎস হচ্ছে ; আর কামিজগুলোকে কামিজ বলা চলেনা। তাদের চোখের দৃষ্টি একটা ক্ষণের জন্য নিচে নামে নাকি সন্দেহ। ফোনে কথা না বললেও ভাব দেখাচ্ছে মোবাইল ফোনে কত আলাপ করে যাচ্ছে -- গলার স্বর তখন তাদের তুঙ্গে। এখনো জীবনে তারা প্রতিষ্ঠিত না। কিন্তু দেখে মনে হবে ওদের চেয়ে আকর্ষণ এবং মনোযোগ পাবার যোগ্য আশে পাশে আর কেউ নাই। জীবনের গন্তব্য কোন দিকে সেটা তারা নিজেরাই জানে। ইংরেজিতে একটা phrase আছে - 'walking with their heads in the clouds'। তিলে তিলে সেটা প্রমাণ করে চলেছে এই সমাজের 'in-the-trend' এসব গ্রুপের ছেলেমেয়েরা। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে জিজ্ঞেস করতে "দেশের মানুষের উন্নতির জন্য তোমাদের অবদান কতটা??" তাদের উত্তরটাও জানতে ইচ্ছে করে।

ভয় হয় এই ভেবে যে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্ম -- দিনকে দিন চিত্র যেভাবে বদলাচ্ছে, এভাবে চলতে থাকলে সেদিন খুব দূরে না যেদিন মানুষের মূল্যবোধ ও গুণাবলীর চর্চার মূল্য শুণ্যের কোঠায় পৌঁছাবে। আর প্রাচুর্য, পোশাক আর দাম্ভিকতার মূল্য বেড়ে যাবে। জাতিগত দিক দিয়ে তখন গৌরবের বিষয়গুলো দূরবীন দিয়ে খুঁজতে বের হতে হবে।